টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার রেশ কাটছেই না পাকিস্তান ক্রিকেটে। মাঠের লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হওয়ার পর এবার প্রশাসনিক দিক থেকেও বড়সড় ধাক্কা খেলেন বাবর আজমরা। টুর্নামেন্টে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের দায়ে জাতীয় দলের প্রত্যেক সদস্যকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। মূলত বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্যহীন ফুটবল এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণের কারণেই এমন নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভরাডুবির চরম মাশুল ও পিসিবি-র কঠোর অবস্থান এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের যাত্রা ছিল এক কথায় হতাশাজনক। সেমিফাইনালের স্বপ্ন তো অনেক দূরে, সুপার এইট পর্বেও ধুঁকতে হয়েছে তাদের। গ্রুপ পর্বে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর (Associate Countries) বিপক্ষে কোনোমতে পয়েন্ট পেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি গ্রিন শার্টসরা। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে পাকিস্তান আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানের লজ্জাজনক হারের পরপরই ক্রিকেটারদের ওপর এমন শাস্তির খড়গ ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। পিসিবি-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা হবে সরাসরি ‘পারফরম্যান্স-বেসড’। অর্থাৎ, ভালো খেললে যেমন আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড বা বোনাস থাকবে, তেমনি ব্যর্থতার ক্ষেত্রে বড় জরিমানা দিতে হবে।
ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স: রেকর্ডের পাতায় ফারহান পুরো দল যখন ব্যর্থতার অতল গহ্বরে, তখন হাতেগোনা কয়েকজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে এই জরিমানার আওতা থেকে হয়তো রেহাই পেতে পারেন সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান এবং উসমান তারিক। বিশেষ করে সাহিবজাদা ফারহান এই আসরে অতিমানবীয় ব্যাটিং করেছেন। ৬ ম্যাচে ৩৮৩ রান করে তিনি এক আসরে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ভারতীয় মহাতারকা বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের ৩১৯ রানের রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন।
অন্যদিকে, ফখর জামান মাত্র ২ ম্যাচে প্রায় ১৮৭ স্ট্রাইকরেটে (Strike Rate) ১০৯ রান করেছেন। তরুণ বোলার উসমান তারিক ৫ ম্যাচে ১৪.১০ গড়ে তুলে নিয়েছেন ১০টি উইকেট। তবে এই উজ্জ্বল ব্যতিক্রমগুলো বাদ দিলে বাকিদের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শাদাব খান ৬ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১১৮ রান, আর প্রধান বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদির ঝুলিতে ছিল মাত্র ৮ উইকেট।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পেশাদারিত্বের বার্তা পিসিবি-র এই কঠোর পদক্ষেপকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা দেখছেন পেশাদারিত্বের এক নতুন ধাপ হিসেবে। বিশ্বের অন্যান্য বড় ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মতো পাকিস্তানও এখন ক্রিকেটারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাইছে। দলের ভেতরকার কোন্দল আর ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্স বন্ধ করতে ‘ভালো পারফরম্যান্সে পুরস্কার, মন্দে শাস্তি’—এই মডেল কতটুকু কাজে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই ৫০ লাখ রুপির জরিমানা যে ক্রিকেটারদের জন্য বড় একটি মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।