ভারতের উদয়পুরে রাজকীয় রাজকীয় পরিবেশে অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়ার পর জীবনের এক নতুন বসন্তে পা রেখেছেন দক্ষিণি সেনসেশন রাশমিকা মন্দানা। বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এই অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা শোবিজ দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গ্ল্যামার আর লাইমলাইটের রঙিন দুনিয়া ছাপিয়ে রাশমিকা এখন বুঁদ হয়ে আছেন সংসার আর সন্তানের স্বপ্নে।
মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ও একাধিক সন্তানের পরিকল্পনা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের অন্তরের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন রাশমিকা। তিনি জানিয়েছেন, কেবল মা হওয়াই নয়, বরং তিনি একাধিক সন্তানের জননী হতে চান। রাশমিকার মতে, একটি সুন্দর সংসারের পূর্ণতা আসে সন্তানের হাসিতে।
মাতৃত্ব প্রসঙ্গে নিজের দর্শন তুলে ধরে ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, "স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার আত্মিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় ও জোরালো করে সন্তান। তাই আমি মা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এটি আমার জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য (Life Goal) হিসেবে দাঁড়িয়েছে।"
ক্যারিয়ার বনাম পরিবার: বড় ত্যাগের ইঙ্গিত অভিনয় জীবনের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অনেক তারকাই সংসার বা মাতৃত্বের জন্য ক্যারিয়ারে বিরতি নিতে ভয় পান। কিন্তু রাশমিকা হাঁটছেন উল্টো পথে। তাঁর কাছে পেশাগত সাফল্যের চেয়ে মাতৃত্বের স্বাদ অনেক বেশি মূল্যবান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর তাঁর অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা ও সঠিক লালন-পালনই হবে তাঁর জীবনের ফার্স্ট প্রায়োরিটি (First Priority)।
এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তাঁকে রূপালি জগত বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি (Film Industry) ছাড়তে হয়, তাতেও তিনি দ্বিধা করবেন না। রাশমিকার এমন সাহসী অবস্থান নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, যেখানে তিনি ক্যারিয়ারের চেয়ে পরিবারকে এগিয়ে রাখছেন।
উদয়পুরের সেই রাজকীয় বিবাহবাসর উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও আভিজাত্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিজয়-রাশমিকার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এদিন দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মিলন মেলা বসেছিল বিবাহ আসরে। সকালে তেলুগু রীতিতে মন্ত্রোচ্চারণ ও অগ্নিকে সাক্ষী রেখে চার হাত এক হয় এই তারকা যুগলের।
এরপর বিকেলে কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘কোডাভা’ রীতিতে বিয়ের দ্বিতীয় পর্ব সম্পন্ন হয়। বিশেষ পোশাক আর সাবেকি অলংকারে রাশমিকাকে লাগছিল এক রাজকন্যার মতো। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও হাতেগোনা কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
হায়দরাবাদে গ্র্যান্ড রিসেপশন ও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আমেজ এখনো কাটেনি। আগামী ৪ মার্চ হায়দরাবাদে বিজয় ও রাশমিকা তাঁদের শোবিজ অঙ্গনের বন্ধুদের জন্য একটি বিশাল বিবাহোত্তর সংবর্ধনা (Wedding Reception) বা গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনের আয়োজন করেছেন। এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক হতে যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি। জানা গেছে, নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা এই অনুষ্ঠানকে একটি অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
পর্দার ‘শ্রীভল্লি’ এখন বাস্তব জীবনে এক দায়িত্বশীল স্ত্রী ও মমতাময়ী মা হওয়ার অপেক্ষায়। ভক্তদের প্রত্যাশা, জীবনের এই নতুন চ্যালেঞ্জেও রাশমিকা সাফল্যের সঙ্গে উতরে যাবেন।