বিতর্কের কেন্দ্রে শাহজাহান চৌধুরী: একের পর এক মন্তব্যে তোলপাড়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী। কখনো পুলিশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের কথামতো কাজ করানোর দাবি, কখনো নিজেকে 'গার্ডিয়ান অব চিটাগাং' (Guardian of Chittagong) দাবি করা, আবার কখনো নিজের পরিচয় ব্যবহার করে বক্তব্য দিয়ে তিনি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার এই ধরনের 'বিতর্কিত' ও 'বিব্রতকর' বক্তব্যের কারণে সংগঠন বা অন্য নেতারা প্রকাশ্যে তার দায় নিতে অস্বীকার করছেন।
পুলিশের 'স্যালুট' নিয়ে মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
সবশেষ গত ২২ অক্টোবর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছাত্রশিবিরের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, "পুলিশ আগে আমাকে গ্রেপ্তার করত, এখন স্যালুট দেয়।"
তিনি আরও বলেন, "ওদিকে দেখছি, পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। কে খবর দিয়েছে জানি না, আমি পুলিশ-টুলিশ খবর দিই না।" পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "এমন কোনো বাপের ক্ষমতা কী আছে, দেখি এখন পুলিশকে বলুক! সবাই মিলে যদি পুলিশে বলে যে, শাহজাহান চৌধুরী এসেছে— তুমি (পুলিশ) যাও না। তখন পুলিশ বলবে, বাপরে বাপ! চিটাগাংয়ের সিংহ পুরুষ এসেছে কী বাধা দেব, আমি গিয়ে পাহারা দেব।"
তিনি আরও দাবি করেন, "আমি পুলিশ-টুলিশ খবর দিই না, কোনো কারণ ছাড়া সবাই আসে। আরকান রোডেও আসে, স্যার আসসালামু আলাইকুম, এমনে (অঙ্গভঙ্গি করে) স্যালুট দেয়। আগে আমাকে গ্রেপ্তার করত, এখন স্যালুট দেয়। এগুলো আল্লাহ তায়ালার কুদরত।"
কেন্দ্রীয় জামায়াতের নোটিশ: ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে তলব
শাহজাহান চৌধুরীর এই 'বিব্রতকর' বক্তব্যের জেরে কেন্দ্রীয় জামায়াত তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ নুরুল আমিন নিশ্চিত করেছেন, গত ২৪ নভেম্বর শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের কারণে কেন্দ্র থেকে তাকে নোটিশ (Notice) করা হয়েছে। তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আরও জানান, ওই একটি ঘটনা ছাড়াও এর আগে-পিছে আরও কোনো বিব্রতকর বক্তব্য তিনি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। কেন্দ্রীয়ভাবে নোটিশ করার মাধ্যমে সংগঠন এই নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে।