• রাজনীতি
  • ১৫০ আসন জয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল: সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত

১৫০ আসন জয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল: সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
১৫০ আসন জয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল: সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত

প্রচলিত জোট নয়, আসনভিত্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে আটটি দলের ঐক্য; ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জামায়াতের 'উচ্চাভিলাষী' লক্ষ্য

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে জোটের শরিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি এনেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী এবার একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য (Ambitious Target) নিয়ে নির্বাচনী ফিল্ডে (Field) নামার কৌশল গ্রহণ করেছে। দলটির লক্ষ্য হলো—নির্বাচনে ন্যূনতম ১৫০টি আসনে জয় নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই তারা নির্বাচনী সমঝোতার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

'প্রচলিত জোট' নয়, 'আসনভিত্তিক সমঝোতা'

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। তবে এই উদ্যোগ কোনো 'প্রচলিত জোট' (Conventional Alliance) গঠনের মাধ্যমে নয়। সূত্র আরও জানায়, এটিকে একটি 'নির্বাচনী বা আসনভিত্তিক সমঝোতা' (Electoral or Seat-based Understanding) হিসেবে চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয় নিশ্চিত করা।

জামায়াতসহ মোট আটটি দল নিয়ে গঠিত এই সম্ভাব্য নির্বাচনী ফ্রন্ট (Front)-এর প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছে বলে কয়েকটি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়লাভের জন্য শরিকদের মধ্যে একটি কার্যকর সমঝোতা স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।

মনোনয়ন কৌশল: জয় সম্ভাবনাই শেষ কথা

বর্তমানে একটি সমন্বয় কমিটি শেষবারের মতো মাঠপর্যায়ে জরিপ (Survey) চালাচ্ছে। এই জরিপে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. কোন দলের কোন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে জয়ের সম্ভাবনা (Winning Probability) সর্বাধিক। ২. মাঠপর্যায়ে প্রার্থীর যোগ্যতা (Eligibility) ও জনপ্রিয়তা কেমন।

এই জরিপ শেষে যোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনার বিচারে সমমনা দলগুলো থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে দর-কষাকষি (Negotiation) এখন শেষ পর্যায়ে। নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হয়েছে যে, যে আসনে যার জয়ের সম্ভাবনা আছে, তিনিই মনোনয়ন পাবেন—তিনি যে দলেরই হোন না কেন। এই স্ট্র্যাটেজি (Strategy) মূলত সর্বোচ্চ রিটার্ন (Maximum Return) নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সম্মিলিত প্রচার

সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে সম্ভব না হলেও আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এই আসন সমঝোতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বর্তমানে আসন ভাগাভাগি, একটি অভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার (Common Election Manifesto) তৈরি এবং সম্মিলিতভাবে প্রচার (Joint Campaign) চালানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। জোটের সম্মিলিত প্রস্তুতি এবং এককভাবে দলগুলোর নিজেদের নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটটি দলেরই প্রার্থী তালিকা শিগগির চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের তপশিল (Schedule) ঘোষণার আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ করার প্রত্যাশা রয়েছে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের প্রত্যাশা: শতাধিক আসন জয়

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, জামায়াতে ইসলামী বেশ আগেই দলীয় প্রার্থীর নাম স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। এখন যেহেতু অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে, তাই এখানে আলাপ-আলোচনার অনেক বিষয় আছে।

মাওলানা হালিম আরও বলেন, "কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে জামায়াতে ইসলামী শতাধিক আসনে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।" তার এই বক্তব্য দলটির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Tags: bangladesh election political news election strategy political consensus jamaat islami seat sharing parliamentary election 150 seats alliance electoral strategy