• জীবনযাপন
  • শীতে আপনার ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত? বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও খাবার সুরক্ষার জন্য জরুরি টেকনিক্যাল টিপস

শীতে আপনার ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত? বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও খাবার সুরক্ষার জন্য জরুরি টেকনিক্যাল টিপস

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
শীতে আপনার ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত? বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও খাবার সুরক্ষার জন্য জরুরি টেকনিক্যাল টিপস

আশেপাশের তাপমাত্রা কমার ফলে ফ্রিজকে কম সেটিং-এ চালালেই চলে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রায় কুলিং রাখলে বাড়বে বিদ্যুৎ বিল এবং নষ্ট হবে খাবার।

শীতকালে রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা কমানো কেন অপরিহার্য?

শীতকালে বাইরের তাপমাত্রা (Ambient Temperature) কমে যাওয়ায় রেফ্রিজারেটরের ভেতরের পরিবেশ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয়ে থাকে। লক্ষ্য করা যায়, অনেকেই গ্রীষ্মকালে যে সেটিংসে (Settings) ফ্রিজ চালান, শীতেও ভুলবশত সেইভাবেই রেখে দেন।

তবে এর ফলস্বরূপ:

খাবার অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে জমে গিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ভুল তাপমাত্রা সেটিং-এর কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ (Electricity) খরচ হয়, যা আপনার মাসিক বিল বাড়িয়ে দেয়।

এই কারণে শীতের জন্য ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা (Temperature) সেট করা অত্যাবশ্যক।

শীতের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ও সেটিং

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ২–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (℃) অথবা ৩–৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (℃) রাখা সবচেয়ে উপযুক্ত। এই টেম্পারেচার রেঞ্জ-এ (Temperature Range) খাবার অনেকক্ষণ তাজা (Fresh) থাকে এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে জমে গিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে। পাশাপাশি, বিদ্যুতের অপচয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

ডায়াল কন্ট্রোল সেটিং: আধুনিক রেফ্রিজারেটরে সাধারণত ১ থেকে ৭ পর্যন্ত একটি ডায়াল বা ডিজিটাল কন্ট্রোল থাকে। সংখ্যাটি যত বড় হয়, ঠান্ডা তত বেশি হয়।

গ্রীষ্মে: সাধারণত ৪ বা ৫-এ রাখতে হয়।

শীতে: ২ বা ৩ নম্বর সেট করাই যথেষ্ট।

ডিজিটাল ফ্রিজে: সরাসরি ৩-৪°C-এ সেট করা যেতে পারে।

কম কুলিং সেটিং রাখার সুবিধা: কম্প্রেসার-এর ওপর চাপ কম

শীতকালে যেহেতু আশেপাশের তাপমাত্রাই কম থাকে, তাই কম কুলিং সেটিং (Cooling Setting) রাখলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়:

কম্প্রেসার (Compressor) কম কাজ করে: বাইরের তাপমাত্রা কম থাকায় ফ্রিজের কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে কম্প্রেসার-কে কম সময় ধরে চলতে হয়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়: কম্প্রেসার-এর কম কাজের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং এনার্জি এফিশিয়েন্সি (Energy Efficiency) বাড়ে।

যন্ত্রের আয়ু বৃদ্ধি: কম চাপের কারণে ফ্রিজের কম্প্রেসার-এর ওপর চাপ কম পড়ায় যন্ত্রাংশের আয়ুও বাড়ে।

ফ্রিজ ভালো রাখার অতিরিক্ত টেকনিক্যাল টিপস ও রক্ষণাবেক্ষণ

শুধু তাপমাত্রা ঠিক রাখলেই হবে না, রেফ্রিজারেটরের পারফরম্যান্স (Performance) ভালো রাখার জন্য আরও কিছু রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance)-এর অভ্যাস মেনে চলা জরুরি:

১. ডিফ্রস্ট করা: সিঙ্গেল-ডোর বা ডাইরেক্ট-কুলড রেফ্রিজারেটরে প্রতি ১৫–২০ দিনে ডিফ্রস্ট (Defrost) করা অত্যাবশ্যক। বরফ জমে থাকলে ঠান্ডা স্বাভাবিকভাবে ছড়াতে পারে না, ফলে ফ্রিজ অকারণে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।

২. সঠিক লোড বজায় রাখা: ফ্রিজে অতিরিক্ত জিনিস রাখলে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। আবার খুব ফাঁকা থাকলেও ঠান্ডা ধরে রাখতে বেশি শক্তি লাগে। তাই মাঝারি পরিমাণে জিনিস রাখা বা অপটিমাল লোড (Optimal Load) বজায় রাখা সবচেয়ে ভালো।

৩. সপ্তাহে একবার বন্ধ রাখা: সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজ বন্ধ রাখা দরকার। এতে কম্প্রেসার রিল্যাক্স করার সুযোগ পায় এবং ফ্রিজ আরও কার্যকরভাবে কাজ করে।

৪. দরজা কম খোলা: বারবার দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কম্প্রেসার-কে সেই তাপমাত্রা পুনরুদ্ধার করতে বেশি কাজ করতে হয়, এতে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।

শীতকালে ফ্রিজের কুলিং সেটিং সামান্য কমিয়ে, নিয়মিত ডিফ্রস্ট করে এবং সপ্তাহে খানিক সময় বন্ধ রাখলে রেফ্রিজারেটর অনেক বেশি দক্ষতার (Efficiency) সঙ্গে কাজ করে। এতে খাবারও থাকে তাজা, বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয় এবং যন্ত্রটির আয়ুও বেড়ে যায়।

Tags: winter fridge setting refrigerator temperature power saving electricity bill defrost compressor kitchen appliance home tips energy efficiency