• জাতীয়
  • ‘হাসিনা পালালেও স্বৈরতন্ত্র পালায়নি’: সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির স্বাধীনতায় জোর বদিউলের, সতর্কবার্তা দুর্বৃত্তায়ন নিয়েও

‘হাসিনা পালালেও স্বৈরতন্ত্র পালায়নি’: সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির স্বাধীনতায় জোর বদিউলের, সতর্কবার্তা দুর্বৃত্তায়ন নিয়েও

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘হাসিনা পালালেও স্বৈরতন্ত্র পালায়নি’: সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির স্বাধীনতায় জোর বদিউলের, সতর্কবার্তা দুর্বৃত্তায়ন নিয়েও

সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ডাক; ‘মাফিয়া’ সিন্ডিকেট ভাঙা ও অর্থনীতি সচল রাখা নিয়ে যা বললেন ফখরুল-শফিকুর-নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচন কমিশনের (EC) পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে এমনটাই মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা ‘Political Criminalization’ বন্ধ করতে না পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের সকল শ্রমই শেষ পর্যন্ত ‘পণ্ডশ্রম’ বা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সম্মেলনে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। ড. বদিউল আলমের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে নির্বাচন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার নানা দিক।

‘স্বৈরতান্ত্রিক সিস্টেম’ বাতিলে গণভোটের প্রসঙ্গ

ড. বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার ভাবনার সঙ্গে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “কেবল কাগজে-কলমে সংস্কার করলেই চলবে না, আমাদের সামগ্রিক ‘Political Culture’ বা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন হয় এবং কারোর হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, তবেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম হবে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে সুজন সম্পাদক বলেন, “ব্যক্তি শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার তৈরি করা ‘Autocratic System’ বা স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতি এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। এই পুরোনো কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।” গণভোট বা ‘Referendum’ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে হয়তো একাধিক পয়েন্ট থাকতে পারে, কিন্তু মূল প্রশ্নটি হবে অত্যন্ত পরিষ্কার—‘আপনারা কি এই স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংস্কার চান, নাকি চান না?’ অর্থাৎ, গণরায়ের মাধ্যমে পুরোনো জঞ্জাল সরানোর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থনীতি ও বিচার: ফখরুল ও শফিকুরের ভিন্ন পর্যবেক্ষণ

একই মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ নয়, বরং একটি ‘Prosperous Bangladesh’ বা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।” অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যারা বিগত দিনে লুটপাট করেছে, তাদের বিচার ও শাস্তি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিচারের নামে যেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অচল হয়ে না পড়ে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ‘Institutional Integrity’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অর্থনীতিতে দুর্বৃত্তপনার যে সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, তা নজিরবিহীন।” তিনি অভিযোগ করেন, স্বয়ং রাষ্ট্রই এই অনিয়মে সহায়তা করেছে। আগামীর বাংলাদেশে একটি ‘Business Friendly Environment’ বা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ‘Political Will’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

‘মাফিয়া’ সিন্ডিকেটের বিচার দাবি

সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তরুণ প্রজন্মের এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, যারা ব্যবসার আড়ালে মাফিয়া চক্র গড়ে তুলেছিল এবং দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, সেই সব ‘মাফিয়া ব্যবসায়ীদের’ বিচার কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

Tags: election commission bangladesh economy political reform mirza fakhrul political culture shafiqur rahman badiul alam majumdar fair election business environment autocratic system