টসের সময় দুই দলের অধিনায়কেরই এক সুর—উইকেট কথা বলছে অন্তত ১৬০ রানের পক্ষে। ইনিংসের অর্ধেক পথ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, বড় সংগ্রহের পথেই হাঁটছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে চিত্রনাট্য পাল্টে গেল মুহূর্তেই। পাকিস্তানি স্পিনারদের বিধ্বংসী ‘স্পিন-জাদু’তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেল দ্বীপরাষ্ট্রের ইনিংস। সেই সহজ লক্ষ্য তাড়ায় কিছুটা ঘাম ঝরাতে হলেও, বাবর আজমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতল পাকিস্তান।
মিডল ওভারে স্পিনারদের ঘূর্ণিজাল
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মূলত ‘মিডল ওভার’গুলোতে। পাকিস্তানি স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেন লঙ্কান ব্যাটাররা। অথচ ১৬০-১৭০ রানের স্বপ্ন দেখা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় মাত্র ১১৪ রানে। পাকিস্তানের তিন স্পিনার মিলে ১২ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৫২ রান, তুলে নিয়েছেন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এর মধ্যে মোহাম্মদ নেওয়াজ ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে তিনি নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা (Man of the Match)। এছাড়া আবরার আহমেদ ১৮ রানে ২টি এবং সাইম আইয়ুব ১৭ রানে ১টি উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ওপেনার কামিল মিশারা ৪৭ বলে ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও, বাকিদের ব্যর্থতায় তা দলের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
সতর্ক ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যভেদ
১১৫ রানের ‘লো স্কোরিং’ টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল পাকিস্তান। ইনিংস বিরতিতে স্পিনার মোহাম্মদ নেওয়াজ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “উইকেটে স্পিনারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা আছে।” সতীর্থের সেই বার্তা মেনেই যেন ব্যাট চালালেন পাকিস্তানের টপ অর্ডার।
দুই ওপেনারের মধ্যে সাহিবজাদা ফারহান ২২ বলে ২৩ এবং অপর ওপেনার ৩৩ বলে ৩৬ রান করে দলের ভিত্তি গড়ে দেন। তবে মাঝপথে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। লঙ্কান স্পিনার পাভান রত্নানায়েকে ১১ রানে ২ উইকেট এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৩১ রানে ১ উইকেট তুলে নিলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়।
বাবরের ‘ক্যাপ্টেনস নক’
দলীয় অধিনায়ক সালমান আগা ১৪ বলে ১৪ রান করে ফিরলে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অভিজ্ঞ বাবর আজম। উইকেটের আচরণ বুঝে, কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। ৩৪ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের এক ধীরস্থির ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই তারকা ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।