জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার বিস্ফোরক অভিযোগ
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন তার এক নির্বাচনী জনসভায় জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, "একাত্তরের পর থেকে জামায়াত ধারাবাহিকভাবে বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে।" তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে আশাশুনির বুধহাটায় করিম সুপার মার্কেট মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বুধহাটার উন্নয়ন ও মডেল উপজেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি
রাজনৈতিক মন্তব্যের পাশাপাশি কাজী আলাউদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে আশাশুনি উপজেলাকে দেশের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত করা হবে।
বুধহাটা অঞ্চলের উন্নয়নে তার প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:
মিনি স্টেডিয়াম: বুধহাটায় একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে, যা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন: বুধহাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একতলা ভবনকে চারতলা ভবনে উন্নীত করার পাশাপাশি এখানকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটানো হবে।
সুপেয় পানি: এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
জনসভায় স্থানীয় নেতৃত্বের সরব উপস্থিতি
বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রবের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন হোসেনের সঞ্চালনায় এই নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। কাজী আলাউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
জনসভায় যারা বক্তব্য দেন:
আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম।
সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস।
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শওকত হোসেন।
সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগসহ বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত বক্তারা কাজী আলাউদ্দিনকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং জামায়াত-বিএনপি জোটের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ডায়নামিক্সে (Dynamics) আসা এই পরিবর্তনকে পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড (Political Stand) হিসেবে দেখছেন বলে মত দেন।