• দেশজুড়ে
  • ‘ভোট দিলেই বেহেশত’—ধর্মের নামে এই ‘পলিটিক্যাল ট্রেডিং’ আর চলবে না: জয়নুল আবদিন ফারুকের কড়া হুঁশিয়ারি

‘ভোট দিলেই বেহেশত’—ধর্মের নামে এই ‘পলিটিক্যাল ট্রেডিং’ আর চলবে না: জয়নুল আবদিন ফারুকের কড়া হুঁশিয়ারি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
‘ভোট দিলেই বেহেশত’—ধর্মের নামে এই ‘পলিটিক্যাল ট্রেডিং’ আর চলবে না: জয়নুল আবদিন ফারুকের কড়া হুঁশিয়ারি

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একাত্তরের বিরোধিতাকারীদের ‘ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট’ ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার কঠোর সমালোচনা; দলীয় কোন্দল ভুলে নেতাকর্মীদের ‘ধানের শীষ’-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

নির্বাচনী আবহে ফের উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট শিকারের চেষ্টার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে ধর্মের নাম ভাঙিয়ে আর কোনো ‘পলিটিক্যাল বিজনেস’ বা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কুতুবের হাট-বাজারে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে ফারুক কেবল বিরোধী পক্ষের সমালোচনাই করেননি, বরং নিজ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।

ধর্মীয় আবেগের অপব্যবহার ও একাত্তরের প্রসঙ্গ

বক্তব্যের শুরুতেই জয়নুল আবদিন ফারুক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “যে মুহূর্তে বাংলাদেশ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই একটি রাজনৈতিক দল—যারা ৫৫ বছর আগে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, যারা আমাদের মায়ের বুক খালি করেছিল—তারা আবার সক্রিয় হয়েছে। আজ তারা ধর্মের পবিত্রতাকে পুঁজি করে আমাদের মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে ‘নারেটিভ’ ছড়াচ্ছে যে, অমুক মার্কায় ভোট দিলেই নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে।”

সাবেক এই চিফ হুইপ ধর্মের নামে এধরণের প্রচারণাকে মিথ্যাচার ও ‘ধর্মীয় ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “এ ধরণের কথা ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলাম বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, একে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো চলে না। ধর্মের নামে বাংলাদেশে আর কোনো রাজনীতি চলবে না, এটা আমাদের সাফ কথা।”

জাতীয়তাবাদী শক্তি ও উন্নয়নের ভিশন

নিজের দলের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফারুক বলেন, বিএনপি কেবল কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং তারা রণাঙ্গনের পরীক্ষিত শক্তি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিতে এমন অনেক নেতা আছেন যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। আমরা নিজেরা মুক্তিযোদ্ধা, আমরা যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা নয়, আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। আমরা চাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ (Communication)—প্রতিটি সেক্টরে মানুষ যেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পায়।”

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামীতে যারা ধর্মের নামে রাজনীতি বা ‘ব্যবসা’ করতে আসবে, তাদের রুখতে হলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।

প্রতীক ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আনুগত্য

দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মতপার্থক্য যে নির্বাচনের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়েও সজাগ ছিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। নেতাকর্মীদের প্রতি তাঁর আহ্বান ছিল ‘পারসোনাল কনফ্লিক্ট’ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে ওঠার।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “নেতৃত্বের গুণাগুণ নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাও অস্বাভাবিক নয়। কেউ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ নাই-ই করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, শহীদ জিয়ার ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে যিনিই আসবেন, তাকে ভোট দেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। ধানের শীষ নিয়ে কোনো আপস নেই।”

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলীয় চেইন অব কমান্ডের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ধানের শীষ আমার, ধানের শীষ শহীদ জিয়ার, ধানের শীষ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এবং ধানের শীষ আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের।” সমাবেশ শেষে তিনি অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

Tags: bangladesh election dhaner shish khaleda zia bnp news religious politics zainul abdin noakhali politics