পাকিস্তানের রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরেই বাতাশে ভাসছিল নানা অশুভ গুঞ্জন। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ছিল তার দল পিটিআই ও সমর্থকরা। এমনকি তাঁর মৃত্যু নিয়েও ডালপালা মেলছিল নানা Rumors। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বস্তির বার্তা শোনালেন ইমরান খানের বোন উজমা খান। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ আছেন।
নাটকীয়তার পর বহু কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ধোঁয়াশা এবং পিটিআই-এর Mass Protest-এর হুমকির মুখে মঙ্গলবার নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাপ্রবাহ। কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা আদিয়ালা কারাগারে এদিন ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার বিশেষ অনুমতি পান তার বোন উজমা খান। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে উজমা খানকে জেল কম্পাউন্ডের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উজমা খান বলেন, “ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি পেয়ে আমি খুশি।” তবে বিস্তারিত এখনই জানাতে চাননি তিনি। তিনি জানান, তার অপর দুই বোন—আলিমা খান এবং নওরীন খানের সঙ্গে Consultation বা পরামর্শের পরই তিনি ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি ও বার্তা নিয়ে বিস্তারিত আপডেট দেবেন। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ইমরান খান যে সুস্থ ও নিরাপদে আছেন, সেই বার্তা দিয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন তিনি।
গুজব বনাম বাস্তবতা: উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ
সম্প্রতি ইমরান খানের ‘মৃত্যু’ বা ‘গুরুতর অসুস্থতা’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। এই গুজবের ভিত্তিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল পিটিআই। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য Law and Order পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তড়িঘড়ি করে পরিবারের সদস্যকে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
উজমা খানের এই সাক্ষাৎ এবং ‘সুস্থতার বার্তা’ পিটিআই নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিস্তারিত আপডেটের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশটির রাজনৈতিক মহল।
আদিয়ালায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা
ইমরান খানের সাক্ষাৎ এবং পিটিআইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে আদিয়ালা কারাগার ও এর আশেপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। High Security Zone হিসেবে চিহ্নিত করে জেল রোডে নতুন করে আরও পাঁচটি চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ধোঁয়াশা এবং সরকারের কঠোর অবস্থান পাকিস্তানের বর্তমান অস্থির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বোনদের পরামর্শের পর ইমরান খানের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য কী বার্তা আসে।