• জাতীয়
  • টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ ব্যাখ্যা দিল দুদক: ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য’

টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ ব্যাখ্যা দিল দুদক: ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য’

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ ব্যাখ্যা দিল দুদক: ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য’

‘প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত’: দুদক-এর পর্যালোচনায় অভিযোগ ‘স্পষ্ট’; যথাযথ আইনি সুযোগ দেওয়া হলেও অনুপস্থিতিতে (in absentia) বিচারের কারণ জানাল সংস্থা।

সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের (Tulip Siddiq) সম্প্রতি করা এই দাবি যে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি—তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) রাতে এক বিস্তৃত বিবৃতিতে এই তথ্য জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিবৃতিটি গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহ করেন। দুদক দৃঢ়ভাবে বলেছে, টিউলিপ সিদ্দিকীকে যথাযথ আইনি সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি বা কোনো প্রতিনিধিও নিয়োগ দেননি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই (in absentia) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অভিযোগের মূল ভিত্তি: সরকারি প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার

টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ উত্থাপিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বিস্তারিত এ ব্যাখ্যা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্য–প্রমাণ টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘স্পষ্ট, সুস্পষ্ট ও অখণ্ড’ভাবে প্রমাণ করে।

দুদক-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মূলত শেখ হাসিনা সরকারের সময় গুলশানসহ ঢাকার অভিজাত এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে।

টিউলিপের ভূমিকা: খালার ক্ষমতা ও অতিরিক্ত প্লট

মামলার নথিতে দেখা গেছে, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর খালা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), মা শেখ রেহানা (Sheikh Rehana) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে সরকারি প্লট বরাদ্দে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এমনকি তিনি নিজেও ওই সময়ে অতিরিক্ত একটি প্লট বরাদ্দ পান বলেও উল্লেখ রয়েছে।

তিনটি মামলার একটি—বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫—এর রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল–৫ (Special Tribunal-5) এই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগপত্রে (Charge Sheet) বলা হয়, তিনি ক্ষমতায় থাকা আত্মীয়ের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তাঁর মা ও ভাইবোনদের জন্য প্লট বরাদ্দ আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও আইনি স্বচ্ছতা

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৩২ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে একাধিক সাক্ষী আদালতকে জানান, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সরকারি বরাদ্দকে প্রভাবিত করেছিলেন। সাক্ষ্য, সরকারি নথি এবং টিউলিপ সিদ্দিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্লট–সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে আদালত তাঁর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

দুদক জানায়, এসব প্লট ঢাকার অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত, যেগুলো আবাসন সংকট দূর করতে সরকারি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এসব জমি বরাদ্দ পায় প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনেরা, যা সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ বলে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে।

লন্ডনের অফশোর কোম্পানির সম্পত্তি: প্রশ্ন দুদক-এর

এ ছাড়াও লন্ডনে (London) অফশোর কোম্পানির (Offshore Company) মাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির তথ্যও মামলার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। দুদক প্রশ্ন তুলেছে, সরকারি পরিবারের সদস্য হয়েও কীভাবে তিনি এবং তাঁর পরিবার ঢাকাসহ লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে একাধিক সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছেন।

সংস্থাটি দৃঢ়ভাবে বলেছে, টিউলিপ সিদ্দিকের এই দাবি যে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি—তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’। তাঁকে যথাযথ আইনি সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি বা প্রতিনিধিও নিয়োগ দেননি। ফলে আইন মেনে তাঁকে অনুপস্থিতিতে (in absentia) বিচার করা হয়। দুদক বলেছে, সব প্রমাণ–নথি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় টিউলিপ সিদ্দিক দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন—এমন দাবি করার মতো কোনো আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি নেই।

Tags: sheikh hasina bangladesh politics corruption dudok tulip siddiq sheikh rehana plot allotment in absentia anti corruption commission legal notice