• জাতীয়
  • জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ দিয়ে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা: ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ দিয়ে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা: ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ দিয়ে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা: ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়

পলকের সঙ্গে জয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন; আনিসুল-সালমানের বিরুদ্ধেও ‘কঠোর দমনপীড়ন’-এর ব্লু-প্রিন্ট ও গণহত্যার পরামর্শের অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি প্রসিকিউশনের

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে কেবল গুলি বা বলপ্রয়োগই নয়, ব্যবহার করা হয়েছিল প্রযুক্তিগত ‘ব্ল্যাকআউট’-এর কৌশলও। আর এই অভিযোগেই এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে। আন্দোলনের সময় পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট শাটডাউন বা বন্ধ রেখে হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে সহায়তার গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, কেবল জয়ই নন, এই প্রক্রিয়ার অন্যতম সহযোগী হিসেবে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধেও তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের মতে, এটি ছিল একটি ‘অর্গানাইজড ক্রাইম’ বা সংঘবদ্ধ অপরাধ, যেখানে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।

‘ইনফরমেশন ব্ল্যাকআউট’ ও হত্যার ব্লু-প্রিন্ট

প্রসিকিউশনের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই মাসে আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন সরকারের নির্দেশে দফায় দফায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল—নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের তথ্য ও ছবি যেন বহির্বিশ্বে বা দেশের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে না পড়ে। তদন্তকারীদের মতে, এই ‘ডিজিটাল ডিসকানেকশন’-এর সুযোগ নিয়েই দেশজুড়ে চালানো হয়েছে নৃশংসতা।

রেকর্ড অনুযায়ী, ১৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত টানা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ জনপ্রিয় ‘কমিউনিকেশন অ্যাপ’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো প্রায় ১৩ দিন অচল করে রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রসিকিউশন দাবি করছে, এই সময়টিতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলক। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণেই আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যার প্রকৃত চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসেনি, যা প্রকারান্তরে ‘ম্যাস কিলিং’ বা গণহত্যায় সহায়তা করার শামিল।

আনিসুল-সালমানের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযোগ

ইন্টারনেট শাটডাউনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের ‘এলিমিনেট’ বা নির্মূল করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, আনিসুল ও সালমান এফ রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন সব সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধেও ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ বা ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রসিকিউশন।

বিচার প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে একটি এবং আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই ‘ফরমাল চার্জ’ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এটি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম হাই-প্রোফাইল বিচারিক কার্যক্রম। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Tags: bangladesh politics international crimes tribunal salman f rahman july uprising sajeeb wazed joy internet shutdown zunaid ahmed palak anisul huq genocide charge digital blackout