• দেশজুড়ে
  • সীমান্তে ফের রক্তপাত: কুলাউড়ায় বিএসএফের ‘এলোপাতাড়ি’ গুলিতে প্রাণ গেল চা-শ্রমিক যুবকের

সীমান্তে ফের রক্তপাত: কুলাউড়ায় বিএসএফের ‘এলোপাতাড়ি’ গুলিতে প্রাণ গেল চা-শ্রমিক যুবকের

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সীমান্তে ফের রক্তপাত: কুলাউড়ায় বিএসএফের ‘এলোপাতাড়ি’ গুলিতে প্রাণ গেল চা-শ্রমিক যুবকের

কৃষিকাজ করতে গিয়েই বিপত্তি; ১৮৪৪ নম্বর পিলারের কাছে বিএসএফের বর্বরোচিত হামলা, হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছেও বাঁচানো গেল না শুকুরামকে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ফের বিষাদ ও আতঙ্কের ছায়া। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) গুলিতে প্রাণ হারালেন শুকুরাম উরাং নামের এক নিরীহ যুবক। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে কর্মধা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিজের কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বিএসএফের অতর্কিত বা ‘Indiscriminate Firing’-এর শিকার হন তিনি, যা আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

কৃষিকাজই কাল হলো শুকুরামের

নিহত শুকুরাম উরাং কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া চা-বাগান বস্তি এলাকার বাসিন্দা দাসনু উরাংয়ের পুত্র। স্থানীয় সূত্রে ও পুলিশ প্রশাসনের তথ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। শুকুরাম জীবিকার তাগিদে সীমান্তবর্তী ১৮৪৪ নম্বর মেইন পিলারের বা ‘Border Pillar’-এর সন্নিকটে নিজেদের কৃষি জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

দুপুর আনুমানিক দেড়টা নাগাদ হঠাৎ করেই ভারতীয় প্রান্ত থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শুকুরাম প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিছুটা পথ অতিক্রম করার পরই তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (Upazila Health Complex) নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের ভাষ্য ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, বিএসএফের গুলিতেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “সীমান্ত পিলারের কাছে কাজ করার সময় এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।”

পুলিশ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া বা ‘Legal Procedure’ মেনে শুকুরাম উরাংয়ের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্ত বা ‘Post-mortem’-এর জন্য মরদেহটি মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

থামছে না সীমান্ত হত্যা

সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে একাধিক বৈঠক এবং ‘Flag Meeting’-এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা থামছে না। কুলাউড়ার এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভীতির সঞ্চার করেছে। চা-বাগান অধ্যুষিত এই শান্ত জনপদে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না শুকুরামের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বা ‘Border Tension’ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tags: crime news bsf shooting border killing kulaura news moulvibazar shukuram urang bangladesh india border