• দেশজুড়ে
  • 'তুই' সম্বোধনে রণক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যালয়: শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ, ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা; পরীক্ষা বর্জন নবম শ্রেণির

'তুই' সম্বোধনে রণক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যালয়: শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ, ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা; পরীক্ষা বর্জন নবম শ্রেণির

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
'তুই' সম্বোধনে রণক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যালয়: শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ, ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা; পরীক্ষা বর্জন নবম শ্রেণির

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত শিক্ষকও; ইউএনও'র নির্দেশে তদন্ত শুরু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার একটি ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে 'তুই' (Tui) সম্বোধনকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা। খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, যা অল্প সময়েই ব্যাপক আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার দুপুরের এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এক শিক্ষকও আহত হন। ঘটনার জেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্রপাত: 'তুই' সম্বোধনে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব

প্রত্যক্ষদর্শী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে সম্বোধনের সময় অনানুষ্ঠানিক ও আপত্তিকর 'তুই' শব্দটি ব্যবহার করে। এটি Code of Conduct-এর লঙ্ঘন দাবি করে দশম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর শুরু করে। এর ফলে মুহূর্তেই দুই শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত শিক্ষক, ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা

শিক্ষার্থীদের এই সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করলে এক শিক্ষার্থী অপর শিক্ষার্থীকে হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষক শাহিন আহমেদ মাঝখানে এসে হস্তক্ষেপ করলে লাঠিটি তাঁর শরীরে লাগে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, একপর্যায়ে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছুরি-চাকু (Sharps) হাতে একে অপরের ওপর হামলার চেষ্টা করে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের সম্মিলিত Intervention-এর ফলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ সাময়িক বন্ধ হলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকের চলমান পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

নবম শ্রেণির আল্টিমেটাম ও প্রধান শিক্ষকের পদক্ষেপ

নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রাজন আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ অহেতুক আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাই আমরা সকল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করেছি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনার সঠিক বিচার (Justice) না হলে তারা পরীক্ষায় আর অংশগ্রহণ করবে না।

এ বিষয়ে খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারেক মাহমুদ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুপুরে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এই অপ্রত্যাশিত হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তাদের পরীক্ষা থেকে বিরত রেখে দ্রুত অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ (Psychological Stress) বিবেচনায় পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই সংঘর্ষের খবর উচ্চ মহলে পৌঁছালে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) মো. ছামিউল ইসলাম ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (Secondary Education Officer) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে (Investigation) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

Tags: school fight student clash kasba news brahmanbaria exam boycott high school student violence secondary education