ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র বছর দেড়েক। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা। তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কাদের শোকেসে উঠবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সেই আলোচনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছেন ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দুঙ্গা এবং সাবেক মার্কিন সকার তারকা মার্সেলো বালবোয়া। শিরোপার দাবিদার কে—এই প্রশ্নে দুই কিংবদন্তি অবস্থান নিয়েছেন দুই মেরুতে।
আমেরিকার মাটিতেই কি ফিরবে সেলেসাওদের গৌরব?
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে কার্লোস দুঙ্গা এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তিনি অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপেরও মূল ভেন্যু সেই যুক্তরাষ্ট্র। আর এই বিষয়টিকেই ব্রাজিলের জন্য বড় ‘অ্যাডভান্টেজ’ হিসেবে দেখছেন দুঙ্গা।
ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর লুইস হার্নান্দেজ এবং ইংল্যান্ডের একাধিক লেজেন্ডের উপস্থিতিতে দুঙ্গা স্পষ্ট জানান, হেক্সা মিশনে এবার সফল হবে ব্রাজিলই। তার মতে, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের স্বাদ পায়নি ফুটবলপাগল এই জাতি। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বজয় করা ব্রাজিলের জন্য ২০২৬ সালটি হতে পারে পয়া।
নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে দুঙ্গা বলেন, "এবারের বিশ্বকাপ হবে সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল। কারণ, আমরা ২৪ বছর ধরে ট্রফিহীন। আমি যখন বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, ভেন্যু ছিল এই যুক্তরাষ্ট্রই। তাই আমার মনে হয়, আমেরিকার চেনা মাঠে খেলা ব্রাজিলের জন্য ট্রফি জেতাটা কিছুটা সহজ হবে। সেলেসাওদের (Seleção) জন্য এটাই এখন সময়ের দাবি এবং ন্যায্য পাওনা।"
আর্জেন্টিনাতেই আস্থা মার্সেলোর, স্পেনের দিকেও নজর
দুঙ্গা যখন আবেগের ভেলায় ভেসে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছেন, তখন বাস্তববাদী বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডিফেন্ডার মার্সেলো বালবোয়া। নিজ মহাদেশে খেলা হলেও, শিরোপার দৌড়ে তিনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেই ফেভারিট মানছেন।
মার্সেলোর ভাষ্যমতে, বর্তমান ফর্ম এবং দলের সংহতি বিবেচনায় ব্রাজিলকে এই মুহূর্তে তালিকার শীর্ষে রাখা কঠিন। তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, আমি এই মুহূর্তে ব্রাজিলকে সিলেক্ট করতে পারছি না। ব্রাজিলকে পছন্দ করার আগে আমাকে আর্জেন্টিনার নাম নিতেই হবে।"
তবে শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির মধ্যেই নিজের ভবিষ্যদ্বাণী সীমাবদ্ধ রাখেননি মার্সেলো। ইউরোপীয় ফুটবলের পাওয়ারহাউজদের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশেষ করে স্পেনের তরুণ প্রজন্মের খেলা তাকে মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালকেও তিনি শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার (Contender) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
নজরে থাকবেন এমবাপ্পে-হালান্ড ও লামিনে ইয়ামাল
শুধুমাত্র দলগত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘স্পটলাইট’ (Spotlight) কারা কেড়ে নেবেন, তা নিয়েও কথা বলেছেন উপস্থিত কিংবদন্তিরা। আধুনিক ফুটবলের সুপারস্টারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দুঙ্গা বেছে নিয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
দুঙ্গা বলেন, "গত বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং পরবর্তী সময়ে এমবাপ্পে যা করে দেখাচ্ছে, তাতে সে নিঃসন্দেহে আগামী বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বা গেম চেঞ্জার (Game Changer) হয়ে উঠবে।" এছাড়া নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান, তবে তিনিও বড় নাম হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন দুঙ্গা।
অন্যদিকে, তরুণ তুর্কিদের মধ্যে স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে আশাবাদী অনেকেই। বার্সেলোনার এই টিনএজ সেনসেশন ২০২৬ সালে বিশ্বমঞ্চে বড় ধামাকা দেখাতে পারেন বলে মত দিয়েছেন ফুটবল বোদ্ধারা।