শীতের আগমনের পরেও দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের গতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ২০০ জন রোগী। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংক্রমণের ভৌগোলিক চিত্র: চট্টগ্রাম ও ঢাকা উত্তরে উদ্বেগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ Data Analysis-এ দেখা গেছে, বর্তমানে ডেঙ্গু সংক্রমণের অন্যতম Hotspot হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২০০ রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯২ জনই চট্টগ্রাম বিভাগের। এর পরেই রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, যেখানে ৭২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্যান্য এলাকার পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
বরিশাল বিভাগ: ১৪ জন
ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ১৪ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৬ জন
খুলনা বিভাগ: ২ জন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শেষ সময়ে এসেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংক্রমণের এই Cluster বা গুচ্ছ সংক্রমণ অব্যাহত থাকা মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
সুস্থতা ও বাৎসরিক পরিসংখ্যান
হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাটিও আশাব্যঞ্জক। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট ২২৬ জন রোগী Discharge বা ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯৪ হাজার ৬২৪ জন ডেঙ্গু রোগী সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়:
Total Cases (মোট আক্রান্ত): ৯৬ হাজার ৮২৭ জন।
Total Fatalities (মোট মৃত্যু): ৩৯৪ জন।
ডিসেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব জনমনে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছে। চিকিৎসকরা জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত Diagnostic Test বা পরীক্ষা করানোর এবং তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে বাসা-বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দিয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।