পৌষের শুরুতেই প্রকৃতি জানান দিচ্ছে তার রুদ্ররূপের। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ যে বার্তা এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। আগামী দিনগুলোতে হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপতে যাচ্ছে পুরো দেশ। কেবল সাধারণ শীত নয়, আগামী তিন মাসে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বা ‘Severe Cold Wave’। আবহাওয়া অফিসের তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বা ‘Long Range Forecast’-এ জানানো হয়েছে, এই সময়ে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায়, যা জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
পারদ নামবে তলানিতে: শৈত্যপ্রবাহের পরিসংখ্যান
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আসন্ন শীত মৌসুমটি গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ আলাদা হতে পারে। পূর্বাভাস বলছে, এই সময়ে দেশজুড়ে ৩ থেকে ৮টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই ‘Temperature Drop’ বা তাপমাত্রার পতন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
কুয়াশার চাদর এবং ‘রিয়েল ফিল’ বা শীতের অনুভূতি
কেবল তাপমাত্রা কমাই নয়, শীতের অনুভূতি বা ‘Real Feel’ তীব্র হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখবে ঘন কুয়াশা। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশার দেখা মিলবে।
তবে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কখনো কখনো এই কুয়াশার স্থায়িত্ব দুপুর পর্যন্ত গড়াতে পারে। যখন দীর্ঘ সময় সূর্য অদৃশ্য থাকে এবং কুয়াশার দাপট চলে, তখন দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বা ‘Diurnal Temperature Range’ কমে আসে। আর এই পার্থক্য কমে গেলেই শীতের তীব্রতা শরীরে অনেক বেশি অনুভূত হয়। দুপুরের পরেও কুয়াশা থাকলে ‘Visibility’ বা দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও প্রস্তুতি
শীতের এই দাপটের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী তিন মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীতের মধ্যে বৃষ্টি হলে তা ‘Winter Rain’ হিসেবে ঠান্ডা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রকৃতির এই আসন্ন বৈরী আচরণের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই শীতবস্ত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসচেতনতা—সবক্ষেত্রেই আগাম সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।