মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তটিই যে জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে, তা কে জানত? যমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় Content Creator পিয়ারি মরিয়ম। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণ পরেই শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই সোশ্যাল মিডিয়া তারকা। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পাকিস্তানের ডিজিটাল আঙিনায়।
জীবনের আলো জ্বালতে গিয়ে নিভে গেল প্রদীপ
পিয়ারি মরিয়মের স্বামী আহসান আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক হৃদয়বিদারক বার্তায় স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, যমজ সন্তান প্রসবের পরপরই মরিয়মের শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আহসান আলী তাঁর শোকবার্তায় লিখেছেন, "পিয়ারি মরিয়ম আর আমাদের মাঝে নেই। আল্লাহ তাঁর বিদেহী আত্মাকে শান্তি দিন এবং আমাদের পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সয়ে নেয়ার শক্তি দিন।" এই দুঃসময়ে ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে মৃত স্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মরিয়মের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও তাঁর মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
গুঞ্জন ও সত্য: কেমন আছে যমজ সন্তান?
মরিয়মের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছিল যে, তাঁর সদ্যোজাত যমজ সন্তানরাও মারা গেছে। এই খবরে ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে এই Fake News বা গুজব উড়িয়ে দিয়ে সত্য প্রকাশ করেছেন মরিয়মের স্বামী।
আহসান আলী ইনস্টাগ্রামে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের যমজ সন্তানরা বেঁচে আছে এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। মাতৃহারা এই দুই নবজাতকের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। মায়ের স্পর্শ না পেলেও বাবার স্নেহে তারা যেন সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে, এখন সেটাই পরিবারের একমাত্র প্রার্থনা।
ভার্চুয়াল জগতে শোকের ছায়া ও মরিয়মের লিগ্যাসি
পিয়ারি মরিয়ম কেবল একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল Social Media Influencer। তাঁর নম্র স্বভাব, সাবলীল বাচনভঙ্গি এবং রিলেটেবল Lifestyle Vlogs তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। তিনি মূলত নিজের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করতেন, যা তাঁকে দর্শকদের ঘরের মানুষে পরিণত করেছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি এবং টিকটকে (TikTok) তাঁকে অনুসরণ করতেন ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। এত বিশাল সংখ্যক ভক্তকে কাঁদিয়ে তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সহকর্মী কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত—সবাই শোক প্রকাশ করছেন। হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটি যে এভাবে জীবনের মাঝপথেই থেমে যাবেন, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না অনলাইন কমিউনিটি।