বিশাখাপত্তনমের বাইশ গজে ভারতীয় ক্রিকেটের নবীন ও প্রবীণ নক্ষত্রদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। একদিকে যখন অভিজ্ঞ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি তাঁদের ক্লাসিক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী সাজালেন, ঠিক তখনই তারুণ্যের স্পর্ধা নিয়ে জ্বলে উঠলেন যশস্বী জয়সওয়াল। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে রান খরায় ভোগা এই তরুণ ওপেনার শেষ ম্যাচে এসে শুধু সেঞ্চুরিই করলেন না, তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল ভারত।
বোলারদের দাপট ও প্রোটিয়াদের ব্যাটিং ধস
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা অবশ্য তাদের জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। কুইন্টন ডি কক এবং টেম্বা বাভুমা মিলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। রায়ান রিকেলটন দ্রুত ফিরলেও, বাভুমা ও ডি ককের ১১৩ রানের পার্টনারশিপ ভারতীয় বোলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল।
ডি কক তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় সেঞ্চুরি তুলে নেন, ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে বাভুমা ৬৭ বলে ৪৮ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। এক সময় মনে হচ্ছিল প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ড অনায়াসেই ৩৫০ রান ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু বাভুমার আউটের পরেই ঘটে ছন্দপতন। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার Middle Order তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ২৯ বলে ২৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শেষ পর্যন্ত পুরো ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা; ১৩ বল বাকি থাকতেই ২৭০ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ভারতের হয়ে বল হাতে ভেলকি দেখান প্রসিধ কৃষ্ণা এবং কুলদীপ যাদব। এই দুই বোলার ৪টি করে উইকেট শিকার করে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
জয়সওয়াল শো এবং রোহিতের উড়ন্ত সূচনা
২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর চড়াও হন। তাঁদের ওপেনিং জুটিতেই আসে ১৫৫ রান, যা ভারতের জয়ের পথ সুগম করে দেয়। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা ব্যক্তিগত ৭৫ রানে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও, ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে।
তবে দিনের সেরা আকর্ষণ ছিল জয়সওয়ালের ব্যাটিং। সিরিজের আগের দুই ম্যাচে মাত্র ৪০ রান করা এই তরুণ তুর্কি এদিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১২১ বলে অপরাজিত ১১৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে বাউন্ডারির চেয়ে ওভার বাউন্ডারির দাপটই ছিল বেশি—১২টি বিশাল ছক্কা ও মাত্র ২টি চার মেরে তিনি প্রমাণ করেন তাঁর Power Hitting সক্ষমতা। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন।
ফিনিশিং টাচে 'কিং' কোহলি
রোহিত শর্মা ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন বিরাট কোহলি। জয়সওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে শেষ করেন তিনি। ৬২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। কোহলি ৪৫ বলে ৬৫ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন, যেখানে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৬টি চার।
পুরো সিরিজ জুড়ে ব্যাট হাতে অনবদ্য ছিলেন কোহলি। দুটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ-সেঞ্চুরির সুবাদে তিনি 'প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ'-এর পুরস্কার জিতে নেন। বিশাখাপত্তনমে ভারতের এই দাপুটে জয় এবং Team Performance আবারও প্রমাণ করল, ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়া কতটা শক্তিশালী।