ছোটপর্দার পরিচিত মুখ যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার মৃত্যু নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বইছে উত্তাল হাওয়া। মেয়ের শোকে পাথর হওয়া বাবা এবার সরাসরি আঙুল তুলেছেন আলভী ও তার পরিবারের দিকে। তার দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে তার মেধাবী মেয়েটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বিয়ের শুরু থেকেই ছিল অমত ইকরার বাবার ভাষ্যমতে, ইকরা যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান, আলভী তখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি এই বিয়েতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। এমনকি আলভীর মায়ের কাছে হাত জোড় করে মেয়েকে ‘ভিক্ষা’ চেয়েছিলেন যেন তার পিছু ছাড়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আলভী ও তার মা যোগসাজশ করে ইকরাকে অল্প বয়সেই বিয়ে করতে বাধ্য করেন।
ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগ ইকরার বাবা আক্ষেপ করে বলেন, তার মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। কিন্তু বিয়ের পর আলভী ও তার পরিবারের কারণে ইকরার পড়াশোনা এবং উজ্জ্বল ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে। তিনি আলভীর মাকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের কারণেই ইকরার জীবনটা বিষাদময় হয়ে উঠেছিল।
ফেসবুক পোস্ট ও চূড়ান্ত প্ররোচনা ইকরার আত্মহত্যার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে আলভীর একটি ফেসবুক পোস্টকে দায়ী করেছেন তার বাবা। নেপাল ভ্রমণকালীন আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইকরা। বাবার দাবি, ইকরা আলভীকে নিয়ে গর্ব করত, কিন্তু আলভীর এমন আচরণ এবং শাশুড়ির অবহেলা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
বিচারের দাবি মিডিয়ার মানুষদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ইকরার বাবা বলেন, “মিডিয়ার মানুষ ভালো হয় না, এরা অসভ্য।” তিনি এই ঘটনার পেছনে প্ররোচনাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন যাতে আর কোনো বাবাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়। ১৫ বছরের জমানো কষ্ট আর অভিমান নিয়ে ইকরা বিদায় নিলেও, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এখন পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে সবাই।