ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি নির্বাচনী রেওয়াজ। ১০ ডিসেম্বরের বৈঠকের পরই কমিশন যেকোনো দিন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রোডম্যাপের অগ্রগতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রস্তুতিমূলক কাজই সম্পন্ন করা হয়েছে। সংলাপ, আইনি সংস্কার, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ, ভোট কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন শেষ হয়েছে।
দুই ভোটের ব্যবস্থাপনা ও সময় নিয়ে চ্যালেঞ্জ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। একই ভোটারের দু’টি ব্যালটে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে ইসির বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটকক্ষের গোপন কক্ষ বৃদ্ধি এবং ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো নিয়েও চলছে আলোচনা।
এই দুই ভোট আয়োজনকে সফল করতে সংস্থাটি একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এক্ষেত্রে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তফসিল ঘোষণা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে কমিশন এখন তফসিল ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নিয়ে নির্দেশনা ও পরামর্শ নিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
মক ভোটিংয়ের ফলাফল সম্প্রতি দুই ভোট একসঙ্গে করার জন্য মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছিল ইসি। এ ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশের মতো। মক ভোটিংয়ে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে সংস্থাটি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ বিষয়ে বলেন, দু’টি ভোট একসঙ্গে করার জন্য ভোটের সময় বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়তে পারে বুথও। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ সকাল ৮টার পরিবর্তে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হতে পারে এবং চারটার পরিবর্তে সাড়ে ৪টায় শেষ হতে পারে।
ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ ইতোমধ্যে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। দুটি ব্যালটে ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়লেও ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে, যা ২ লাখেরও বেশি হতে পারে।
ভোটার তালিকা ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক হাজার ২৩৪ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। পুরুষ ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন। আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন।