'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' অধ্যাদেশের দাবিতে রাজধানী ঢাকার শিক্ষা ভবনের সামনে রাতেও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের এক দফা দাবি, অর্থাৎ এই অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও ক্লাসরুমে ফেরা হয়নি
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাইম হাওলাদার আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ছাড়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরতে পারেননি। এই অচলাবস্থা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাজীবনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, 'অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আমাদের পরিচয় নিশ্চিত করুন। প্রশাসনের সবাইকে জানাতে চাই, শিক্ষার্থীদের আকুতি আপনারা শুনুন। তাদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে নিন।' এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাত কলেজের দীর্ঘদিনের Identity Crisis-এর সমাধান হবে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন।
হাইকোর্ট মোড় ছেড়ে শিক্ষা ভবনে অবস্থান
রবিবার সকাল থেকেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস থেকে এসে প্রথমে শিক্ষা ভবন মোড়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা হাইকোর্টের সামনে অবরোধ সৃষ্টি করেন, যার ফলে নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাত আটটায় অবরোধ তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাইম হাওলাদার জানান, 'আমরা জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখন হাইকোর্ট মোড় ছেড়ে দিচ্ছি। তবে একদফা আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান করব।' তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'অধ্যাদেশ না নিয়ে কেউ বাসায় ফিরবে না।' এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি আগামীকাল সকাল থেকে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি Higher Education Sector-এর প্রশাসনিক জটিলতা এবং Policy Implementation-এর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার চিত্র তুলে ধরছে।