জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর এই ডোপ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মূলত একটি স্বচ্ছ ও মাদকমুক্ত নির্বাচনের Electoral Integrity নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এনআইডি ও আইডি কার্ড নিয়ে ঢামেকে টেস্ট
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানান, ৯ ও ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানেই ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করা হবে।
প্রার্থীদের অবশ্যই তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) এবং স্টুডেন্ট আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। টেস্টের সময় ডাক্তারদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান।
স্বাক্ষর জালিয়াতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রার্থীদের সতর্ক করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজ হাতে স্বাক্ষর দিতে হবে। এখানে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। কেউ স্বাক্ষর জাল করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করা হবে।' জালিয়াতি রুখতে নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান Transparency এবং Accountability-কে প্রাধান্য দিচ্ছে।
নতুন তফসিল: প্রচারণার সময় ১৪ দিন
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিং শেষে নির্বাচনের নতুন তফসিল নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। সেই তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো নিম্নরূপ:
কার্যক্রমের বিবরণ তারিখ (২০২৫) ডোপ টেস্ট ৯ ও ১০ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১১ ও ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর প্রত্যাহারকৃত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর ভোটগণনা ৩০ ডিসেম্বর ফলাফল ঘোষণা ৩০-৩১ ডিসেম্বর
এই তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীরা ১৪ দিন সময় পাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য। শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত দেশের Student Politics-এ স্বচ্ছতা ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।