বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সমুদ্রে তিনি এক অভিজ্ঞ নাবিক। কিন্তু এই দীর্ঘ পথচলার শুরুটা মোটেও মসৃণ বা রাজকীয় ছিল না। সরকারি চাকরি ছেড়ে, অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে তিনি নেমেছিলেন জনসেবায়। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক নস্টালজিক পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সেই শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। সেখানেই উঠে এসেছে ১৯৮৮ সালের এক নির্বাচনের গল্প, যেখানে তাঁর প্রতীক ছিল ‘সাইকেল’।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, পেশাগত জীবন ও রাজনীতির বাঁক বদলের এক অজানা অধ্যায় তিনি তুলে ধরেছেন নেটিজেনদের সামনে।
‘রুট লেভেল’ থেকে উঠে আসার গল্প
পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে উঠেছেন মির্জা ফখরুল। তবে তিনি চেয়েছিলেন পারিবারিক পরিচয়ের ছায়ায় না থেকে নিজের যোগ্যতায় স্থান করে নিতে। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, “আমি ছাত্রজীবনে রাজনীতি (Student Politics) করেছি, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে ছিলাম সরাসরি জড়িত। আমার পরিবার রাজনীতি করলেও নিজের যোগ্যতায় নিজের জায়গা নিজে করে নিতে চেয়েছি। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও শুরুটা করেছিলাম একেবারে রুট লেভেল (Root Level) থেকে।”
এই ‘রুট লেভেল’ বা তৃণমূলের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে গিয়ে তাঁকে নিতে হয়েছিল কঠিন সিদ্ধান্ত। তিনি তখন সরকারি চাকরিতে কর্মরত। কিন্তু জনসেবার টানে সেই নিশ্চিত জীবনের মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৮৮ সালের নির্বাচন ও সাইকেল প্রতীক
পোস্টে মির্জা ফখরুল ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি জানান, সরকারি চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি পৌরসভার উন্নয়নের (Development) লক্ষ্যে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।
সেই নির্বাচনে তাঁর মার্কা বা প্রতীক ছিল ‘সাইকেল’। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই বিজয়ই ছিল তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের (Political Career) এক বড় টার্নিং পয়েন্ট, যা তাঁকে আজকের মির্জা ফখরুলে পরিণত করেছে।
ওয়াহিদের স্ট্যাটাস ও স্মৃতির ঝাঁপি
হঠাৎ কেন এই স্মৃতিচারণ? মির্জা ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের এক পরিচিত মুখ ওয়াহিদের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস (Status) দেখেই তাঁর পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি লেখেন, “আজ ঠাকুরগাঁও-এর ওয়াহিদের স্ট্যাটাস দেখে মনে পড়েছে সেই দিনগুলো। ওয়াহিদ তখন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। তাকে ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেবার জন্য।”
মির্জা ফখরুলের এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে। একজন জাতীয় নেতার তৃণমূল থেকে উঠে আসার এই গল্প তরুণ রাজনীতিবিদ ও অনুসারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। কমেন্ট বক্সে অনেকেই তাঁর এই দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।