শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রোববার (৭ ডিসেম্বর) ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই নীতিমালা দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। বিদ্যালয় (নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়); কলেজ [উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস) কলেজ, স্নাতক (সম্মান) কলেজ, স্নাতকোত্তর কলেজ]; সংগীত কলেজ (শরীরচর্চা কলেজ, চারুকলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ও বিকেএসপি বিশেষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবে। বাস্তবতার সাথে মিল রেখে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এরকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিও ভুক্তির আওতায় আনতে পারবে)।
এমপিও বলতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসে প্রদত্ত বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশকে বুঝাবে। আর কর্মরত বলতে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনসহ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যানবেইস ডাটাবেজে তথ্য থাকাকে বুঝাবে।
ন্যূনতম পরীক্ষার্থী ও পাসের হার
নীতিমালা অনুযায়ী, বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য পাবলিক পরীক্ষায় ন্যূনতম পরীক্ষার্থী ও পাসের হার হতে হবে— নিম্নমাধ্যমিকে (অষ্টম শ্রেণি) সিটি করপোরেশনে ন্যূনতম পরীক্ষার্থী ৩৫ জন ও পাসের হার ন্যূনতম ৭০ শতাংশ, জেলা সদরের পৌরসভায় ৩৫ জন ও পাসের হার ৬৫ শতাংশ, মফস্বলে ২৫ জন ও পাসের হার ৬০ শতাংশ। মাধ্যমিকে (এসএসসি) সিটি করপোরেশনে পরীক্ষার্থী ন্যূনতম ৩৫ জন ও পাসের হার ন্যূনতম ৭০ শতাংশ, জেলা সদরের পৌরসভা (শহর) ৩৫ জনও ৬০ শতাংশ, মফস্বলে ৩৫ জন ও ৫৫ শতাংশ।
উচ্চমাধ্যমিকে (এইচএসসি) সিটি করপোরেশনে পরীক্ষার্থী পরীক্ষার্থী ন্যূনতম ৪০ জন (ব্যক্তি এমপিওর ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ১৫ জন এবং মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ২৫ জন) ও পাসের হার ৬৫ শতাংশ; জেলা সদরের পৌরসভা (শহর) ৪০ জন (ব্যক্তি এমপিওর ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ১৫ জন এবং মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ২৫ জন) ও ৫৫ শতাংশ; মফস্বলে ন্যূনতম ৩৫ জন (ব্যক্তি এমপিওর ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ১৫ জন এবং মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ/বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ২০ জন) ও ৫০ শতাংশ।
এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হবেন না
ননএমপিও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে এক বছর একাদিক্রমে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলেও তিনি ব্যক্তি এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাদিক্রমে বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক তার এমপিও স্থগিত/বাতিল করা হবে।
এমপিও স্থগিত, কর্তন, বাতিলকরণ ও পুনঃ ছাড়করণ
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ যে কারণে কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশের বরাদ্দ সাময়িক বন্ধ, আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্তন কিংবা বাতিল করতে পারবে।
সরকার বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক হিসাব সংরক্ষণ ও আয়-ব্যয় নিরীক্ষা না করলে/সরকারের নির্দেশনা প্রতিপালন না করলে/ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পিপিআর অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত/বাতিল করা হবে এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদশূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ, ভুয়া শাখা/মিথ্যা শিক্ষার্থী প্রদর্শন, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, পাবলিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ না করা, নৈতিক স্খলন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর/বোর্ডের ‘আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল কমিটির সিদ্ধান্ত প্রতিপালন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতাদি স্থগিত/বাতিল করা হবে।
ডাটাবেজ
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এনটিআরসিএতে শিক্ষক-প্রদর্শকের চাহিদা দিলে ওই পদে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক/প্রদর্শককে নিয়োগ দিতে হবে। চাহিদা দেওয়ার সময় পদটি এমপিও নিশ্চিত হতে হবে। প্যাটার্ন অতিরিক্ত চাহিদা দিলে উক্ত শিক্ষক/প্রদর্শকের শতভাগ বেতন-ভাতাদি প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাহ করতে হবে। এ শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত/বাতিল করা হবে এবং কমিটির সভাপতির পদশূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমপিওভুক্তির জন্য ভুয়া/জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ/নিবন্ধন সনদ প্রদান, নিয়োগসংক্রান্ত ভুয়া/জাল রেকর্ড প্রদান এবং প্যাটার্ন বহির্ভুত পদে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন পাঠালে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি স্থগিত/বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা/পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদশূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম/বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ উত্তোলনে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারী/প্রতিষ্ঠান প্রধানের সরকারি অংশের বেতন-ভাতাদি/প্রাতিষ্ঠানিক এমপিও কোড মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর/মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সাময়িক স্থগিত করতে পারবে।
এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর দায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিংবডির সভাপতির নামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রেরণ করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংক্ষুব্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/শিক্ষক/কর্মচারী/পরিচালনা কমিটির সভাপতি মন্ত্রণালয়ে আপিল করতে পারবে।
সাময়িক বরখাস্ত
কোনো ফৌজদারি/নৈতিক স্খলন/দুর্নীতির মামলায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্তি অন্তে বা নালিশি দরখাস্তের ভিত্তিতে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতার অর্ধেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এমপিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিগত মামলায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারী আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সিদ্ধান্তের বিষয়টি আইনানুগভাবে বিবেচনা করবে।
পুনর্বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
কোনো প্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর/মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক স্থগিত/কর্তন/বাতিলের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যাবে—
প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষক-কর্মচারীকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর উপর্যুক্ত কারণ উল্লেখপূর্বক ও প্রমাণাদি সহকারে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণপূর্বক এটি পরীক্ষান্তে ৩০ দিনের মধ্যে মতামতসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠাবেন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত নিম্নোক্ত ‘আপিল কমিটি’ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সুপারিশ করবে।