রোহিঙ্গাধ্যুষিত জনপদ হিসাবে এনজিও, আইএনজিও, ঠিকাদারী প্রতিষ্টান, বিভিন্ন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, ও রোহিঙ্গাসহ এখানে বসবাস করছে প্রায় সাত লাখ মানুষ। শহরে চেয়েও তীব্র যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ সড়কের বাঁকে বাঁকে সড়ক দূর্ঘটনা এমনিই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পথচারী যাত্রীসহ সর্বশ্রেনীর পেশাজীবিরা শংকিত।
কক্সবাজার শহর থেকে ৫ কিমি দক্ষিণে লিংকরোড ত্রি রাস্তার মুখ। লিংকরোড থেকে উখিয়া উপজেলা হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৯ কিলোমিটার সড়কে আঁকা বাঁকা ২শত একে অপরকে নজরে আসেনা এমন প্রায় ৩১টি বাঁক মৃত্যুফাঁদে পরিণত। এসব বাঁকের কিছু কিছু অংশে সড়ক ও জনপদ বিভাগ দিক নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করলেও বৃহত্তর বাঁক অংশে সাংকেতিক চিহ্ন সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। সড়কে ইদানিং যানবাহনের সংখ্যা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেলেও সময়োপযোগী সড়কে আশাতীত উন্নয়ন ও ডিভাইডার না থাকায় সড়ক দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বৃহত্তর যাত্রী সাধারণ।
উখিয়ার জাদিমোরা বাঁকের দুর্ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যাক্তিরা জানান, এ বাঁকটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সড়ক বিভাগের কোনো সাংকেতিক চিহ্ন নেই। উভয়দিক থেকে চলমান গাড়ি একে অপরকে নজরে না আসায় চলাচলরত অধিকাংশ যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। তারা বলেন, গত এক বছরে এ বাঁকে মাইক্রো ও মিনিট্রাক, সিএনজি টমটমসহ বিভিন্ন গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক যাত্রী ও পথচারি আহত হয়েছে। একইভাবে সড়কের শীলের ছড়া, টিএন্ডটি, মরিচ্যা চেকপোষ্ট, মরিচ্যা লম্বাব্রীজ, বালুখালী, থাইনখালী, পালংখালী, পানের ছড়া, মিঠাছড়ি, হোয়াইক্ষং সহ প্রায় ৩১টি বাঁকে অসংখ্য দূর্ঘটনা ঘটলেও সড়ক ও জনপদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাথা ব্যথা নেই।
দুরপাল্লার যাত্রীবাহি বাস সেন্টমার্টিন সার্ভিসের চালক নুর আলম জানান, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইতিমধ্যে কিছু কিছু বাঁকে দিক নির্দেশনামূলক ডিজিটাল সাংকেতিক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। যা রাতের বেলায় গাড়ীর লাইট পড়লে সামনে বাঁক কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাঁকে এরকম কোন সাইনবোর্ড নেই। অসাবধানতা বশত: এসব বাঁকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনায় পতিত হয়। হতাহত হয় যাত্রীসাধারণ ও পথচারী।
উখিয়া-টেকনাফ সড়কের বেশ কয়েকজন নিয়মিত চাকুরীজীবি টেকনাফ কলেজের অধ্যাপক কবি সিরাজ জানায়, ওয়ান ওয়ে কক্সবাজার ভায়া উখিয়া-টেকনাফ সড়কটিতে বাঁকে বাঁকে প্রসস্তকরণ উন্নয়ন খুবই জরুরী। তিনি বলেন, ওইসব বাঁকে মাটি ভরাট করে সুজাকরণে ব্যবস্থা নেয়া হলে অন্তত সড়ক দুর্ঘটনা অনেটা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি সড়ক ও জনপদ বিভাগ বাঁকা সড়ক গুলো সোজাকরণ সহ প্রশস্ততা বাড়ানোর সহ ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলে সড়কে দূর্ঘটনা অনেকটা কমে যাবে।