• খেলা
  • সনের সন্তানের ‘মা’ হওয়ার মিথ্যা দাবি! ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে নারী

সনের সন্তানের ‘মা’ হওয়ার মিথ্যা দাবি! ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে নারী

খেলা ১ মিনিট পড়া
সনের সন্তানের ‘মা’ হওয়ার মিথ্যা দাবি! ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে নারী

টটেনহ্যামের প্রাক্তন তারকাকে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে ফাঁসলেন ষড়যন্ত্রীরা; ৪ বছরের জেল নারীর, সঙ্গীর জুটেছে ২ বছর

মাঠের খেলায় তিনি যেমন ক্ষিপ্র, মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা মেটাতেও তেমনই দৃঢ়তা দেখালেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল আইকন সন হিউং-মিন। মিথ্যা গর্ভাবস্থার নাটক সাজিয়ে সনকে ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে এক নারীকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে সিউল ডিস্ট্রিক্ট আদালত। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যাচার এবং অর্থ আত্মসাতের দায়ে ওই নারীকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে তাকে সাহায্য করার অপরাধে তার এক পুরুষ সঙ্গীকেও ২ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে।

মিথ্যে গর্ভাবস্থা এবং ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। বিশোর্ধ্ব এক নারী দাবি করেন যে, তিনি সন হিউং-মিনের সন্তানের মা হতে চলেছেন। এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে পুঁজি করে তিনি সনকে হুমকি দিতে শুরু করেন। বিষয়টি জনসমক্ষে বা ‘পাবলিকলি’ প্রকাশ করে তার ক্যারিয়ার ও সম্মান ধ্বংস করার ভয় দেখিয়ে ওই নারী সনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ দাবি করেন।

২০২৪ সালে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সন পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই নারীর হাতে ৩০ কোটি কোরিয়ান ওন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) তুলে দিতে বাধ্য হন। তারকা খ্যাতির বিড়ম্বনা এড়াতেই সন প্রাথমিকভাবে বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোভ এবং ষড়যন্ত্রের পতন

টাকা পাওয়ার পরেও থামেননি ওই নারী। বরং লোভ আরও বেড়ে যায়। তিনি চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে নতুন করে ষড়যন্ত্র বা ‘Conspiracy’ শুরু করেন। এই পুরুষ সহযোগী সনের কাছ থেকে আরও অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে সনকে প্রায় ১৫ বার হুমকি দেয়। তাদের ক্রমাগত ‘এক্সটরশন’ (Extortion) বা চাঁদাবাজির চাপে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তারকা ফুটবলার।

চলতি বছরে যখন তারা আবারও বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে বসে, তখন আর চুপ থাকেননি সন। তিনি সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং আইনি ব্যবস্থা বা ‘Legal Action’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো এবং গর্ভাবস্থার দাবিটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আদালতের রায় এবং স্বস্তি

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিউল ডিস্ট্রিক্ট আদালত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর রায় ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, একজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির সম্মানহানি এবং তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে অর্থ আদায়ের অপরাধে মূল অভিযুক্ত নারীকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তার সহযোগীকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায় তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ব্ল্যাকমেইল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

নতুন অধ্যায়ে সন হিউং-মিন

ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড় সামলে সন এখন তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে মন দিয়েছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের (Tottenham Hotspur) সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছরের মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে গত আগস্টেই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ৩৩ বছর বয়সী এই এশিয়ান সুপারস্টার বর্তমানে মেজর লিগ সকার বা এমএলএস-এর (MLS) ক্লাব ‘লস অ্যাঞ্জেলস এফসি’-র হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। আইনি ঝামেলা মিটে যাওয়ায় এখন তিনি নির্ভার হয়ে ফুটবলেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করছেন ভক্তরা।

Tags: football news south korea asian football legal news son heung min blackmail case tottenham hotspur lafc sports crime