• রাজনীতি
  • ‘দেশ বাঁচাতে যুদ্ধে নামতে হবে, নইলে ধ্বংস অনিবার্য’—মেগা প্রজেক্ট বাতিল করে মানবসম্পদে বিনিয়োগের ঘোষণা তারেক রহমানের

‘দেশ বাঁচাতে যুদ্ধে নামতে হবে, নইলে ধ্বংস অনিবার্য’—মেগা প্রজেক্ট বাতিল করে মানবসম্পদে বিনিয়োগের ঘোষণা তারেক রহমানের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘দেশ বাঁচাতে যুদ্ধে নামতে হবে, নইলে ধ্বংস অনিবার্য’—মেগা প্রজেক্ট বাতিল করে মানবসম্পদে বিনিয়োগের ঘোষণা তারেক রহমানের

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে যুবদলের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা; দুর্নীতির উৎস ‘মেগা প্রজেক্ট’ থেকে সরে এসে ১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তনের সাহসী রূপরেখা পেশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের।

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশরক্ষা ও পুনর্গঠনকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (KIB) মিলনায়তনে যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক বিশেষ সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বার্তা দেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে অধিক গুরুত্বারোপ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত ‘মেগা প্রজেক্ট’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে।

অস্তিত্ব রক্ষার ‘যুদ্ধ’ ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশ রক্ষার জন্য আমাদের এক প্রকার যুদ্ধে নামতে হবে। ঘর থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। আমরা যদি এই যুদ্ধে জয়ী হতে না পারি, তবে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই যুদ্ধ কোনো সংঘাত নয়, বরং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র মেরামতের সংগ্রাম।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘পলিটিক্যাল ডিসকোর্স’ বা রাজনৈতিক আলোচনার মান নিয়ে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘‘পত্রিকা বা টেলিভিশন খুললেই কেবল একে অপরের বিষোদ্গার। জনগণ এই নেতিবাচক বিতর্ক শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ। তারা এখন জানতে চায়, কোন দল তাদের জন্য কী ‘সলিউশন’ বা সমাধান নিয়ে আসছে। একমাত্র বিএনপিই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছে।’’

‘মেগা প্রজেক্ট’ সংস্কৃতি বাতিল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ

বিগত সরকারের আমলে গৃহীত বড় বড় প্রকল্পগুলোকে দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে তারেক রহমান এক বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘‘আমরা কোনো লোকদেখানো ‘মেগা প্রজেক্ট’-এ যাব না, কারণ এগুলো দুর্নীতির বড় মাধ্যম। আমাদের অগ্রাধিকার হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন (Human Resource Development)।’’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ‘জিহাদ’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে, কিন্তু মূল পরিবর্তন আসতে হবে মানসিকতায়। আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট বা ‘পাবলিক সাপোর্ট’ পেতে হলে নেতাকর্মীদের আচরণের পরিবর্তন অপরিহার্য।

১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও নারী ক্ষমতায়ন

স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন বিএনপির শীর্ষ এই নেতা। তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সারাদেশে ১০ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হবেন নারী। এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবাই নিশ্চিত করবে না, বরং নারীদের জন্য বিশাল ‘এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন’ বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ (Family Card) প্রথা চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই দেশের প্রতিটি নারী অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হোক। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সারা দেশের নারী সমাজকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো হবে।’’

শিক্ষা, কৃষি ও মানবাধিকারের নতুন দিগন্ত

শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানের করার লক্ষ্যে তারেক রহমান জানান, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষায় (Third Language) দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে। কৃষিখাতে তিনি রফতানি বা ‘এক্সপোর্ট’ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘‘মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার জন্মগত। অতীতে যেভাবে ‘হিউম্যান রাইটস’ বা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, আমরা চাই না ভবিষ্যতে আর কারও জীবনে এমনটা ঘটুক। সবাইকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’’

নগর পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নগর পরিকল্পনার (Urban Planning) বিষয়েও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের শহরগুলোতে দম ফেলার জায়গা নেই। শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ নেই। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে বাজার দরে জমি কিনে খেলার মাঠ তৈরি করে দেব।’’ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। তিনি সতর্ক করেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় সংকটে পড়বে দেশ।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

Tags: tarique rahman bnp bangladesh politics human rights family card mega project jubo dal vision 2030 employment generation health sector reform