গণঅধিকার পরিষদে (Gonoadhikar Parishad) অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও তীব্র হয়েছে। এবার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানের (Rashed Khan) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব (No-Confidence Motion) এনেছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা। এতে তিনি রাশেদ খানকে তার পদ থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন। এই ঘটনা সংগঠনটির অভ্যন্তরে নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) গণঅধিকার পরিষদের সর্বোচ্চ ফোরাম উচ্চতর পরিষদের সদস্য আব্দুজ জাহের দলের সভাপতি নুরুল হক নুর বরাবর একটি লিখিত আবেদনে এই অনাস্থা প্রস্তাব দেন। বিষয়টি গণঅধিকার পরিষদের একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন।
অনাস্থা প্রস্তাবের মূল অভিযোগ
আব্দুজ জাহের তার অনাস্থা প্রস্তাবে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দলীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি ‘দলের ভেতরে অন্য রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন’।
আব্দুজ জাহের দাবি করেন, রাশেদ খানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, সংগঠনের ঐক্য বিনষ্ট করছে এবং গণঅধিকার পরিষদের মূল আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সংগঠনের অখণ্ডতার জন্য গুরুতর হুমকি
অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের আরও লেখেন, “এই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি যে, তার বর্তমান পদে বহাল থাকা সংগঠনের অখণ্ডতা, লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ।”
অতএব, সংগঠনের গঠনতন্ত্র (Constitution) অনুযায়ী তিনি প্রস্তাব করেন যে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের প্রতি অনাস্থা ঘোষণা করা হোক এবং তাঁর পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ জানান, এমন একটি অনাস্থা প্রস্তাব দলের একজন উচ্চতর পরিষদ সদস্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের অন্যতম শীর্ষ দুই নেতা নুরুল হক নুর এবং রাশেদ খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান Leadership Conflict এই অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে আরও প্রকাশ্য রূপ নিল। চলমান এই অভ্যন্তরীণ Crisis আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।