১৯৬৬ সালের পর আর ছোঁয়া হয়নি সোনালী ট্রফি। দীর্ঘ ৬০ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবার উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমাবে ইংল্যান্ড। তার আগে নিজেদের ‘স্ট্রেন্থ’ ও ‘উইকনেস’ পরখ করে নিতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা। ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উরুগুয়ে ও জাপানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে ইংলিশরা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলি’ ম্যাচের সূচি নিশ্চিত করেছে।
ওয়েম্বলিতে টুখেলের এসিড টেস্ট
প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। এবার মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার পালা। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ঠিক তার চার দিন পর, ৩১ মার্চ একই ভেন্যুতে এশিয়ান জায়ান্ট জাপানকে আতিথ্য দেবে তারা। কোচ টমাস টুখেলের জন্য এই দুটি ম্যাচ দলের কৌশল বা ‘ট্যাকটিকস’ ঠিক করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সহজ হবে না লড়াই: র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণ
ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ দুটি কেবলই প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের মঞ্চ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৬তম স্থানে থাকা উরুগুয়ে এবং ১৮তম স্থানে থাকা এশিয়ান পাওয়ারহাউজ জাপান—উভয়ই ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। জাপানের গতি এবং উরুগুয়ের শারীরিক ও কৌশলী ফুটবল ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ স্টেজ’-এর বৈচিত্র্যময় প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করার জন্য এই দুটি ম্যাচ টুখেলের শিষ্যদের দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে।
ফাইনাল স্কোয়াড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরার আগে শেষ সুযোগ
বিশ্বকাপের আগে মে মাসে কোচ টমাস টুখেল তাঁর চূড়ান্ত দল বা ‘ফাইনাল স্কোয়াড’ ঘোষণা করবেন। সেই হিসেবে, মার্চের এই দুটি ম্যাচই খেলোয়াড়দের জন্য ঘরের মাঠে বা ‘হোম গ্রাউন্ড’-এ নিজেদের প্রমাণ করার শেষ সুযোগ। যারা দলে জায়গা পাকা করতে চান, তাদের জন্য এই ম্যাচগুলো কার্যত ‘অডিশন’ পর্ব। জানা গেছে, ইংল্যান্ড ছাড়ার আগে ওয়েম্বলিতে খেলে, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দলটি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ সমীকরণ
২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড রয়েছে ‘এল’ গ্রুপে (Group L)। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া, আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানা এবং পানামা। কঠিন গ্রুপ পর্ব পার হতে হলে উরুগুয়ে ও জাপানের মতো দলের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বা ‘কনফিডেন্স লেভেল’ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে ফুটবল বিশ্ব।