• জীবনযাপন
  • হৃদরোগের যম ‘সুপারফুড’ কলা: রোজ খেলেই ২৭ শতাংশ কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

হৃদরোগের যম ‘সুপারফুড’ কলা: রোজ খেলেই ২৭ শতাংশ কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
হৃদরোগের যম ‘সুপারফুড’ কলা: রোজ খেলেই ২৭ শতাংশ কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

পটাশিয়ামের জাদুতে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ঠেকাতে ডায়েটে এই সস্তা ফলের গুরুত্ব অপরিসীম; জানুন সুস্থ থাকতে কতটা জরুরি এই ‘মিনারেল পাওয়ারহাউস’।

হাতের নাগালে থাকা সবচেয়ে সস্তা এবং সহজলভ্য ফলটিই হতে পারে আপনার হৃদযন্ত্রের পরম বন্ধু। আধুনিক জীবনযাত্রায় যখন Heart Attack এবং Stroke-এর ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন ডায়েটে সামান্য পরিবর্তন আনার। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সুপারফুড’ খ্যাত কলা। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত একটি করে কলা খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে প্রায় ২৭ শতাংশ।

পটাশিয়াম: হার্ট সুরক্ষার গোপন চাবিকাঠি

কলার এই জাদুকরী ক্ষমতার নেপথ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান বা Essential Mineral—পটাশিয়াম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, মানবদেহের অন্যতম ভাইটাল অর্গান হার্টকে সচল ও সুস্থ রাখতে পটাশিয়ামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ গ্রহণের ফলে যে উচ্চ রক্তচাপ বা High Blood Pressure-এর সমস্যা তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করে এই পটাশিয়াম। এটি রক্তনালীর ওপর চাপ কমায় এবং হার্টের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণার ফল: ঝুঁকি কমছে ২৭ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বা Daily Diet-এ পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখেন, তাদের Cardiovascular Disease বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। কলায় এই খনিজ উপাদানটি প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে থাকায়, এটি হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ‘ন্যাচারাল মেডিসিন’ হিসেবে কাজ করে।

দৈনিক চাহিদা ও কলার ভূমিকা

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন কতটা পটাশিয়াম প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের দৈনিক ৩,৫০০ থেকে ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৪৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকে। অর্থাৎ, সকালের নাস্তায় বা দুপুরের খাবারের পর একটি কলা আপনার দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম। এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতেও সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজমশক্তি বৃদ্ধি

কেবল হার্ট নয়, কলার গুণাগুণ ছড়িয়ে আছে দেহের অন্যান্য কার্যকারিতাতেও। প্রচুর পরিমাণে Dietary Fiber বা আঁশ থাকায় কলা হজমপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এছাড়া যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্যও কলা একটি আদর্শ খাবার। এর ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা পরোক্ষভাবে Obesity বা স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বিকল্প উৎস ও সতর্কতা

অবশ্যই কেবল কলার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। পটাশিয়ামের চাহিদা মেটাতে ডায়েটে রাখা যেতে পারে আলু, অঙ্কুরিত ছোলা, বিভিন্ন ধরণের মাছ এবং পোল্ট্রিজাত পণ্য। একটি সুষম বা Balanced Diet-ই কেবল হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে তলানিতে নামিয়ে আনতে পারে।

তবে, যেকোনো কিছুই অতিরিক্ত গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত কলা খেলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ‘হাইপারক্যালিমিয়া’ হতে পারে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া অতিরিক্ত গ্রহণে পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়াজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত কলা খাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

Tags: health tips weight loss blood pressure stroke risk superfood healthy diet heart health nutrition facts potassium source banana benefits