নৃশংস হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা' শীর্ষক আলোচনার ষষ্ঠ দিনের সভার শুরুতে তারেক রহমান শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, 'ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা পল্টনে দুষ্কৃতকারীর গুলিতে গুরুতর আহত করা হয়েছে; আমি এই নৃশংস ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি।'
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে ছাত্রদলসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতা করেন। তারেক রহমান বলেন, 'সরকারকে-বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে-সহযোগিতা করতে, যেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীকে খুঁজে বের করতে পারেন।'
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকের বক্তব্য
গুলিবিদ্ধ হাদির পেছনের রিকশায় থাকা মো. রাফি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, জুমার নামাজ শেষে রিকশায় হাইকোর্টের দিকে আসার সময় রাজধানীর বিজয়নগরে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে হাদি ভাইয়ের ওপর গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে 'লাইফ সাপোর্ট' দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাদির অবস্থা 'ক্রিটিক্যাল' (আশঙ্কাজনক) এবং বুলেটটি তার মাথার ভেতরে রয়েছে।
হাসপাতালে মির্জা আব্বাস তোপের মুখে
এদিকে হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তবে সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও হাদির সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে 'ভুয়া, ভুয়া' স্লোগান শুরু করেন, ফলে তিনি তোপের মুখে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেন।
এর আগে দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদির ওপর এই গুলি চালানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক নিশ্চিত করেন, দুপুর আড়াইটার পরপরই হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে।