টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাকরণকে যেন নতুন করে লিখলেন স্কট অ্যাডওয়ার্ডস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডসকে নেতৃত্ব দেওয়া এই উইকেটকিপার-ব্যাটার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা ক্রিকেট বিশ্বকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরি! মাত্র ৮১ বলে ২২৯ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলে সংবাদের শিরোনামে এখন এই ডাচ তারকা।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ডিভিশন ওয়ান ক্লেঞ্জো গ্রুপ শিল্ড’ টুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ডে আলটোনা স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন অ্যাডওয়ার্ডস। প্রতিপক্ষ উইলিয়ামস ল্যান্ডিং এসসি-র বোলারদের ওপর দিয়ে রীতিমতো তোপ দাগান তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে তার খেলা এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ২৩টি বিশাল ছক্কা এবং ১৪টি চার। ইনিংস শেষে তার Strike Rate ছিল ২৮২.৭১, যা যেকোনো বিচারেই অকল্পনীয়।
দানবীয় ইনিংসের আদ্যোপান্ত
ম্যাচের শুরুতে ওপেনিং করতে নেমে অ্যাডওয়ার্ডস প্রথম ওভারে ১১ রান নিয়ে সতর্ক শুরু করেন। তবে, তার আসল রূপ দেখা যায় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রিন্স চৌহানের বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি তার Aggressive Intent পরিষ্কার করে দেন। এরপর টানা দুই ছক্কায় মাত্র ২৩ বলেই অর্ধশতক বা হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
অপর প্রান্তে তার ওপেনিং পার্টনার মেলবোর্ন স্টারসের সাবেক খেলোয়াড় ল্যাকলান ব্যাঙ্গসও যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন। তাদের জুটি আলটোনাকে ১১ ওভারেই ১৫০ রানের শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেয়। ব্যাঙ্গস আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই, একটি সিঙ্গেল নিয়ে নিজের শতক পূর্ণ করেন অ্যাডওয়ার্ডস। তবে সেঞ্চুরি করার পর তার ব্যাট যেন আরও চওড়া হয়ে ওঠে।
শেষ চার ওভারে রানের বন্যা ও ‘ডেথ ওভার’ ভেলকি
শতক পার করার পরেও অ্যাডওয়ার্ডসের রান তোলার গতি বিন্দুমাত্র কমেনি। ম্যাচের ১৭তম ওভারে তিনি ১৫০ রানের Milestone স্পর্শ করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় আসল ধ্বংসলীলা। ইনিংসের শেষ চার ওভারে তিনি মোট ১৪ বার বল বাউন্ডারি ছাড়া করেন, যার মধ্যে ১২টিই ছিল ছক্কা!
১৬ ওভার শেষে দলের স্কোর যেখানে ছিল ২১২/২, সেখানে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে আলটোনা স্পোর্টস ক্লাবের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৪/২। অর্থাৎ শেষ ৪ ওভারে প্রায় ১০০ রান যোগ হয় স্কোরবোর্ডে। অ্যাডওয়ার্ডস অপরাজিত থাকেন ২২৯ রানে।
রেকর্ডবুক ও পরিসংখ্যানের সমীকরণ
ক্রিকেট প্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তবে কি ক্রিস গেইলের সেই মহাকাব্যিক ১৭৫ রানের রেকর্ড ভেঙে গেল? ২০১৩ সালে আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে গেইলের সেই ইনিংসটিই এখন পর্যন্ত স্বীকৃত বা Professional T20 ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর।
যেহেতু ‘ফার্স্ট গ্রেড ক্রিকেট’ বা ক্লাব পর্যায়ের ম্যাচগুলোকে আন্তর্জাতিক বা আনুষ্ঠানিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা (Official Status) দেওয়া হয় না, তাই অ্যাডওয়ার্ডসের এই ২২৯ রানের ইনিংসটি বিশ্বরেকর্ডের পাতায় স্থান পাচ্ছে না। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক বা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অ্যাডওয়ার্ডসের সর্বোচ্চ রান ৯৯, এবং তিনি এখনো পেশাদার ক্রিকেটে কোনো ফরম্যাটেই শতকের দেখা পাননি। অথচ সেই তিনিই এক অনানুষ্ঠানিক ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসলেন।
ম্যাচের ফলাফল
অ্যাডওয়ার্ডসের এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের সামনে প্রতিপক্ষ উইলিয়ামস ল্যান্ডিং এসসি মানসিকভাবেই হেরে গিয়েছিল। ৩০৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয়ে যায়। আলটোনা ম্যাচটি জিতে নেয় ১৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। কৌতূহলজাগানিয়া তথ্য হলো, প্রতিপক্ষ দলের মোট রান অ্যাডওয়ার্ডসের একার রানের অর্ধেকের চেয়ে সামান্য বেশি ছিল। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আলটোনা।