পেশাদার রেসলিং দুনিয়ায় একটি যুগের অবসান হলো। ‘নেভার গিভ আপ’ মন্ত্রে দীক্ষিত যে মহাতারকা গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রিং মাতিয়ে রেখেছিলেন, সেই জন সিনা অবশেষে তাঁর বুট জোড়া তুলে রাখলেন। ২৩ বছরের এক অবিশ্বাস্য ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল এক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। ডব্লিউডব্লিউই-এর মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্ট ‘সাটারডে নাইট মেইন ইভেন্ট’ (Saturday Night's Main Event)-এ বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী রেসলার গুন্থারের কাছে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে রিংকে বিদায় জানালেন এই লিভিং লিজেন্ড।
রিংয়ে শেষ লড়াই ও গুন্থারের আধিপত্য
জন সিনার বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পে-পার ভিউ (Pay-Per-View) ইভেন্টে ‘দ্য রিং জেনারেল’ খ্যাত গুন্থারের মুখোমুখি হন সিনা। ম্যাচটি ছিল অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের শক্তির এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সিগনেচার মুভগুলো দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন সিনা। কিন্তু গুন্থারের টেকনিক্যাল দক্ষতা ও শক্তির কাছে শেষমেশ হার মানতে হয় ১৬ বারের বেশি বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।
ম্যাচের ফলাফল সিনার বিপক্ষে গেলেও, রিংয়ের আবহ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হারের গ্লানি ছাপিয়ে স্টেডিয়াম জুড়ে শুধুই ছিল সিনার প্রতি দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মান। রেফারি যখন গুন্থারের হাত ওপরে তুলে ধরলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ সিনা’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন পুরো অ্যারেনা।
রেকর্ডবুক ও সোনালী পরিসংখ্যান
জন সিনা শুধু একটি নাম নয়, রেসলিং ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি ‘ব্র্যান্ড’। দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য প্রায় সকল মেজর টাইটেল নিজের কোমরে জড়িয়েছেন তিনি। ডব্লিউডব্লিউই-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ওয়ার্ল্ড টাইটেল জেতার রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন এই মেগাস্টার। চলতি বছরেই বর্তমান সময়ের আরেক শীর্ষ তারকা কোডি রোডসকে হারিয়ে রেকর্ড ১৭তম বারের মতো ডব্লিউডব্লিউই হ্যাভিওয়েট শিরোপা (WWE Heavyweight Title) জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন সিনা।
তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়নশিপ, ইউনাইটেড স্টেটস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ওয়ার্ল্ড ট্যাগ টিম চ্যাম্পিয়নশিপসহ অসংখ্য বেল্ট। এছাড়া রয়্যাল রাম্বাল (Royal Rumble)-এর মতো কঠিন ব্যাটল রয়্যালে দুইবার বিজয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব।
বিদায়বেলায় সতীর্থদের শ্রদ্ধা
সিনার এই বিদায়ী মুহূর্তে ডব্লিউডব্লিউই লকার রুমও আবেগে আপ্লুত ছিল। রিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ও সাবেক প্রজন্মের একাধিক সুপারস্টার। তাঁরা সিনাকে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করেন। এছাড়া রেসলিং জগতের বাইরের অনেক তারকা এবং কিংবদন্তি রেসলাররা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জন সিনার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন। অনেকেই উল্লেখ করেন, সিনার নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের রেসলারদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
গুগলের অভিনব ট্রিবিউট: ‘ইউ কান্ট সি মি’
জন সিনার অবসরের খবর শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সাড়া ফেলেছে প্রযুক্তি বিশ্বেও। টেক জায়ান্ট গুগল (Google) এই কিংবদন্তিকে সম্মান জানাতে তাদের সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত করেছে এক বিশেষ ইস্টার এগো (Easter Egg)।
জন সিনার বিখ্যাত ক্যাচফ্রেজ ‘ইউ কান্ট সি মি’ (You Can't See Me)-কে উপজীব্য করে এই ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। গুগলে জন সিনা লিখে সার্চ করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে তাঁর আইকনিক হাতের ভঙ্গি। সেই হাতে ক্লিক করা মাত্রই জাদুর মতো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে সার্চ রেজাল্ট পেজ। এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া রূপক অর্থে বুঝিয়ে দিচ্ছে, আজকের পর থেকে প্রফেশনাল রেসলিংয়ের রিংয়ে আর দেখা যাবে না এই মহাতারকাকে।