হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পুরোদমে জেঁকে বসেছে শীত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ জনপদে শীতের আগমন ঘটে আগাম, আর বিদায়ও নেয় সবার শেষে। গত পাঁচ দিন ধরে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ‘মৃদু শৈত্যপ্রবাহ’ (Mild Cold Wave)। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও সন্ধ্যা নামার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়ছে জনজীবন।
তাপমাত্রার এই চরম ভাবাপন্ন আচরণের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে কনকনে শীত উপেক্ষা করে পথে নামতে হলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
তাপমাত্রার ‘ড্রামাটিক’ ওঠানামা
আবহাওয়া দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিন ধরে পঞ্চগড়ের Temperature বা তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত দেয়। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোদের দেখা মিললেও রাতের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা Record করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Humidity) ছিল ৮৯ শতাংশ। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সূর্য ওঠার পর দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বেড়ে ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। ফলে দুপুরে কিছুটা উষ্ণতা অনুভব করা গেলেও, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
জনজীবনে শীতের প্রভাব ও আবহাওয়া বার্তা
উত্তর-পশ্চিম দিক (North-West) থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভোরে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া মিলে এক কনকনে পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। গ্রামীণ জনপদে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় সময় সংবাদকে জানান, “গত ৫ দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বা Mild Cold Wave বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন নেই এবং এটি ‘সিঙ্গল ডিজিট’-এ অবস্থান করছে।”
তিনি আসন্ন দিনগুলোর Weather Forecast সম্পর্কে সতর্ক করে আরও বলেন, “সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের বেলার তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে, যার ফলে শীতের তীব্রতা (Intensity) ও স্থায়িত্ব দুটোই বাড়বে।”