দেশের আইন অঙ্গনের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (SCBA) সাবেক সভাপতি এএফএম মেজবাহ উদ্দিন আর নেই। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
এই প্রথিতযশা আইনজ্ঞের মৃত্যুতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম অর্ধদিবস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শোকের আবহে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, প্রথা বা ‘Convention’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক কোনো সভাপতি বা সাবেক বিচারপতির প্রয়াণে আদালতের বিচারকাজ অর্ধদিবসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুর ১টার পর থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালিত হবে না। এমনকি আজ চেম্বার আদালতের (Chamber Court) কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়, রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে এএফএম মেজবাহ উদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
জানাজা ও দাফন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ইনার গার্ডেনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বিচারপতি এবং আইনজীবীরা জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
মরহুমের মেয়ে অ্যাডভোকেট সীমন্তী আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, জানাজা শেষে তার বাবার মরদেহ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে (Banani Graveyard) দাফন করা হবে।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন: বেঞ্চ ও বারের সেতুবন্ধন
সিনিয়র অ্যাডভোকেট এএফএম মেজবাহ উদ্দিনের কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি ১৯৭৭ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে বা ‘Enrolled’ হন। তার মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি (Additional Judge) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
বেঞ্চে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাননি, তবে এতে দমে যাননি তিনি। পুনরায় ফিরে আসেন আইন পেশায় বা ‘Legal Practice’-এ। আইনজীবীদের নেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০০৯-২০১০ সেশনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিচারপতি এবং আইনজীবী—উভয় ভূমিকাতেই তিনি তার সততা ও নিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, যা তাকে আইন অঙ্গনে স্মরণীয় করে রাখবে।