• জাতীয়
  • তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ ইসির, তবু শহরজুড়ে পোস্টার

তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ ইসির, তবু শহরজুড়ে পোস্টার

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ ইসির, তবু শহরজুড়ে পোস্টার

যেদিন তফসিল ঘোষণা করবো তারপর ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে সব ধরনের প্রচার প্রচারণা যেগুলো রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে করেছেন এবং ঝুলিয়েছেন এগুলো সরাতে হবে

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্লোগান ও ছবিসহ নির্বাচনি পোস্টার সাটানো রয়েছে দেয়ালে, বিদ্যুতের খুঁটিতে, চায়ের দোকানে, মেট্রোরেলের পিলারসহ বিভিন্ন দৃশ্যমান জায়গায়। তবে ঝোলানো ব্যানারের পরিমাণ কমেছে কিছুটা। কিন্তু রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে বাঁশ দিয়ে বানানো বিশাল তোরণ এখনও বহাল তবিয়তেই রয়েছে।

তফসিল ঘোষণা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে যে-সব প্রচার সামগ্রী (পোস্টার/ব্যানার/বিলবোর্ড) ব্যবহার করেছে— সেগুলো সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে। আর এর ব্যত্যয় হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। তবে ইসির এই নির্দেশের যেন কোনও তোয়াক্কাই করছে না রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণা করার ৯০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী রাস্তায় দৃশ্যমান।

এখনও শহরের বেশিরভাগ জায়গায় দৃশ্যমান রয়েছে নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার, তোরণ। ইসির পক্ষ থেকে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারিতেও প্রার্থীদের মধ্যে আসেনি কোনও পরিবর্তন। উল্টো কিছু কিছু জায়গায় নতুন পোস্টার লাগানো হয়েছে বলেও লক্ষ্য করা যায়। যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এসব নির্বাচনি পোস্টার— তোরণ যেনও নেই নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিসীমার মধ্যে। ঠিক একইভাবে আচরণ বিধি মানার প্রবণতাও যেনও নেই নির্বাচনি প্রার্থীদের মধ্যে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশ কয়েকবার আচরণ বিধিমালা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনি প্রচারণা সরানোর নির্দেশও দিয়েছিল ইসি। কিন্তু ইসির এই নির্দেশনার ফলাফল দৃশ্যমান নয়। এখন তফসিল ঘোষণার পরে এসে ইসি বলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সব পোস্টার সরাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া একটু কঠিন।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে দলগুলোর উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে। অথচ আমরা পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। এগুলো সরাতে হবে। যারা লাগিয়েছেন সরিয়ে নিন; আমরা কঠোর হবো। এ সমস্ত ক্ষেত্রে উই উইল নট স্পেয়ার, আমরা ব্লাইন্ডলি উইল জাম্প ওভার দিস ভায়োলেশন। যখন তফসিল ঘোষণা হবে, তখন আমরা ঝাঁপিয়ে পড়বো।’

এদিকে গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১০-তম কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা যেদিন তফসিল ঘোষণা করবো তারপর ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে সব ধরনের প্রচার প্রচারণা যেগুলো রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে করেছেন এবং ঝুলিয়েছেন এগুলো সরাতে হবে। না সরালে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে নির্বাচনি আচরণ বিধির আওতায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন তফসিল ঘোষণা করবো সেদিন থেকে আমাদের কার্যকরী ভূমিকা আপনারা দেখতে পাবেন। তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।’ কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরেও রাজধানীর চিত্র প্রায় একই রয়েছে। তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনও নির্বাচনি পোস্টার রয়েছে— এই ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করেছি। আমাদের রিটার্নিং অফিসাররা এগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

আমি মন্দের ভালোটা বলি... অন্তত আজকে বাসা থেকে আমি অফিসে আসতে গিয়ে কিন্তু আমি অনেক ব্যানার টানানো আর দেখি নাই। তবে আমার চোখে কিছু পোস্টার পড়েছে যেগুলো আঠা দিয়ে দেওয়ালের সঙ্গে ল্যাপটানো, এগুলো আর হয়তো সরাতে পারে নাই। কিন্তু এগুলো নিয়েও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের বলে দেবো, এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।’

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এবারের নতুন সংশোধনীতে। কোনও প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে জারি করা হয় গণবিজ্ঞপ্তি। সেখানে বলা হয়, ‘সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় সম্প্রতি করপোরেশনের অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনায় বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নির্বাচনি প্রচারণার প্রচারপত্র ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। যা দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২-এর পরিপন্থি।’

আরও বলা হয়, ‘একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অনুমতিবিহীন সব ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নির্বাচনি প্রচারপত্র ইত্যাদি স্ব-উদ্যোগে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন/ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংগঠন/ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ব্যানার অপসারণ করা হচ্ছে। এসময় রাজনৈতিক দলের পক্ষে এসব সরানোর কথা— এমনটা বললে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এই কর্মী বলেন, শুনেছিলাম তো দলের নেতারাই সরাবে। সেটা করলে তো ভালোই হতো। কিন্তু তারা কী আর করবে! আমাদের করতে হবে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী রয়ে গেছে— এই ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘আমরা বলেছি যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেবে। যদি না সরায় তাহলে আইনের যে প্রভিশন আছে... এগুলোকে রিমুভ করবে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

Tags: ইসি তফসিল নির্বাচনি