• জীবনযাপন
  • 'কুইন অফ হার্বস'-এর জাদুতে গলবে কিডনির পাথর, ত্বকে ফিরবে জেল্লা! জানুন তুলসির ৫টি অব্যর্থ ঔষধি গুণ

'কুইন অফ হার্বস'-এর জাদুতে গলবে কিডনির পাথর, ত্বকে ফিরবে জেল্লা! জানুন তুলসির ৫টি অব্যর্থ ঔষধি গুণ

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
'কুইন অফ হার্বস'-এর জাদুতে গলবে কিডনির পাথর, ত্বকে ফিরবে জেল্লা! জানুন তুলসির ৫টি অব্যর্থ ঔষধি গুণ

সামান্য সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে কিডনির সমস্যা— ভেষজ চিকিৎসায় তুলসির জুড়ি মেলা ভার। রোজ সকালে দু-চারটি পাতা চিবিয়ে খেলেই মিলবে অবিশ্বাস্য সুফল, জেনে নিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম।

প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির প্রতিটি ঘরে তুলসি গাছ কেবল পূজনীয়ই নয়, বরং আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে এটি একটি ‘মহৌষধ’। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তুলসিকে 'Queen of Herbs' বা ভেষজের রানি বলে অভিহিত করা হয়। ছোটখাটো মৌসুমি রোগবালাই থেকে শুরু করে শরীরের বড়সড় জটিলতা— সবক্ষেত্রেই তুলসি পাতার রয়েছে জাদুকরী প্রভাব। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরপুর এই পাতাটি নিয়মিত সেবনে কীভাবে সুস্থ থাকবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১. কিডনির সুরক্ষায় ও পাথর নিরাময়ে ‘ডিটক্স’

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিকে সুস্থ রাখতে তুলসি পাতা একাই একশ। এটি একটি শক্তিশালী ‘Detoxifying Agent’ হিসেবে কাজ করে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে তুলসির রস। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত তুলসি পাতার রস এক গ্লাস করে পান করেন, তাদের ‘Kidney Stone’ বা পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আর যদি ইতিমধ্যে পাথর জমে গিয়ে থাকে, তবে ভেষজ বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ৬ মাস নিয়ম করে তুলসি পাতার রস সেবন করলে পাথর মূত্রের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

২. গলা ব্যথা ও সংক্রমণে আরাম

ঋতু পরিবর্তনের সময় বা ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এই অস্বস্তি কাটাতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণসমৃদ্ধ তুলসি পাতার জুড়ি নেই। সামান্য গরম জলে কয়েকটি তুলসি পাতা ভালো করে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে গার্গল (Gargle) করলে নিমেষেই আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া এই জল পান করলে গলায় জমে থাকা কফ ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দ্রুত সেরে যায়।

৩. সর্দি-কাশি ও সিজনাল ফ্লু প্রতিরোধে

সর্দি-কাশি বা ‘Seasonal Flu’ এখন প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই ঘরে ঘরে দেখা যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভর না করে ভরসা রাখতে পারেন তুলসির ওপর। সর্দি-কাশির প্রকোপ কমাতে ৫-৭টি তাজা তুলসি পাতা ভালো করে ধুয়ে মিনিট পাঁচেক ধরে চিবিয়ে রসটি গিলে নিন। এতে শ্বাসনালীর সংক্রমণ কমে এবং বুকের কফ তরল হয়ে বেরিয়ে আসে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘Immunity System’-কে শক্তিশালী করে তোলে।

৪. প্রাকৃতিক ‘স্কিনকেয়ার’ ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি

কসমেটিকসের কেমিক্যাল থেকে ত্বককে বাঁচাতে তুলসি হতে পারে আপনার সেরা বন্ধু। ব্রণ বা Acne-র সমস্যা সমাধানে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। তুলসি পাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ত্বকের গভীরে গিয়ে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেয়। তুলসি পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত ত্বকে লাগালে ব্রণ, র‍্যাশ এবং নানা ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা দূর হয়। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে ‘Natural Glow’ বা প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে।

৫. ভাইরাল জ্বর, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে

জ্বর সারাতে তুলসি পাতার ব্যবহার বহু প্রাচীন। সাধারণ ভাইরাল ফিভার থেকে শুরু করে ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রেও তুলসি পাতা ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। জ্বরের সময় চায়ে তুলসি পাতা সেদ্ধ করে সেই ‘Herbal Tea’ পান করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভ হয়। পরিবারের কারও জ্বর হলে তুলসি পাতা ও সামান্য দারুচিনি মিশিয়ে ফোটানো জল বা চা ঠান্ডা করে পান করালে জ্বরের প্রকোপ কমে এবং রোগী দ্রুত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

উপসংহার

প্রকৃতির এই অমূল্য উপহারটি হাতের কাছেই পাওয়া যায়। তাই রোজকার জীবনযাত্রায় বা Daily Diet-এ সামান্য এই পরিবর্তনটি আনলে, তা দীর্ঘমেয়াদে আপনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, গুরুতর শারীরিক সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Tags: health tips skin care home remedy herbal tea cold and cough immunity booster kidney stone tulsi benefits