টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ফের শুটিং ফ্লোরে দুর্ঘটনার ছায়া। এবার গুরুতর আহত হলেন বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সুপারস্টার জিৎ। পরিচালক পথিকৃৎ বসুর বহুপ্রতিক্ষিত পিরিয়ড ড্রামা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর শুটিং চলাকালীন এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় এক বিশেষ চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে স্টুডিও পাড়া সূত্রে খবর।
স্তব্ধ শুটিং, উদ্বেগে অনুরাগী মহল
জানা গিয়েছে, সিনেমার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের শুট চলছিল। আচমকাই সেই সিকোয়েন্স চলাকালীন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিনেতা। ঠিক কীভাবে বা শরীরের কোথায় তিনি আঘাত পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় শুটিং।
চলতি সপ্তাহ জুড়ে এই মেগাবাজেট সিনেমাটির ঠাসা শিডিউল ছিল। কিন্তু জিতের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আপাতত সমস্ত কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বা Postpone করা হয়েছে। জিতের মতো ফিটনেস সচেতন এবং অ্যাকশন-প্রিয় তারকার এই হঠাৎ অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর অগণিত অনুরাগী এবং টলিউডের সহকর্মীরা। পরিচালক পথিকৃৎ বসুও শুটিং পুনরায় কবে শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ‘ডেট’ বা Timeline দিতে পারেননি।
পর্দায় জীবন্ত অনন্ত সিংহ: এক চ্যালেঞ্জিং চরিত্র
এই ছবিতে জিৎকে দেখা যাবে ইতিহাসের এক অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত চরিত্রে। তিনি অভিনয় করছেন অগ্নিযুগের বিপ্লবী অনন্ত সিংহের ভূমিকায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময় এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই এই সিনেমার মূল উপজীব্য। যেহেতু এটি একটি পুরোদস্তুর Action-packed সিনেমা, তাই চরিত্রের প্রয়োজনে জিৎকে নানাবিধ শারীরিক কসরত ও স্টান্টের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, চরিত্রের প্রয়োজনে গড়া ইনটেন্স অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি পারফর্ম করতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে।
কে এই অনন্ত সিংহ? ইতিহাসের পাতা থেকে সেলুলয়েডে
১৯০৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী অনন্ত সিংহ ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক। সিনেমার চিত্রনাট্যে কেবল তাঁর ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামই নয়, উঠে আসবে তাঁর জীবনের পরবর্তী ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলোও। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি নকশালপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
ইতিহাস বলছে, ১৯৬০ সালে কলকাতায় ধারাবাহিক ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের জদুগোড়া থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই অপরাধে তাঁকে দীর্ঘ আট বছর কারাভোগ করতে হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, ব্যাংক ডাকাতির সেই অর্থ তিনি নিজের বিলাসের জন্য নয়, বরং ব্যয় করেছিলেন বাংলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায়—যা তাঁকে অনেকটা ‘রবিনহুড’ ভাবমূর্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ১৯৭৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এমন এক বহুমাত্রিক ও জটীল মনস্তত্ত্বের চরিত্রকে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যেকোনো অভিনেতার কাছেই এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।
মুক্তির অপেক্ষায় দর্শক
‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। তবে শুটিংয়ে এই অপ্রত্যাশিত বাধার কারণে ছবির মুক্তি পেছাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে বাংলা ছবির মুক্তির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার বা স্লট সিস্টেম অনুসরণ করার কথা রয়েছে, যার ফলে ছবির রিলিজ ডেট নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত জিতের দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছে গোটা টলিউড ও তাঁর ফ্যানরা।