নিরাপত্তা প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব— চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২১ বিএমএ লং-কোর্সে কোর অব আর্টিলারিতে কমিশন লাভ করেন।
মেধাবী শিক্ষাজীবন সামরিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই ড. শামছুল ইসলামের রয়েছে উজ্জ্বল কৃতিত্ব। শিক্ষাজীবনে তিনি অষ্টম শ্রেণীতে ময়মনসিংহ জেলায় প্রথম হয়ে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়াও তিনি ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে প্রথম শ্রেণিতে মিলিটারি টেকনোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে বাংলাদেশের নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি বিষয়ে তিনি প্রথম ডক্টরেট (PhD) ডিগ্রি লাভ করেন। সামরিক একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি 'ওসমানী গোল্ড মেডেল' লাভ করেন।
বিশেষ সামরিক ও কৌশলগত প্রশিক্ষণ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শামছুল ইসলাম বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, চীন, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ৭টি দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে স্টাফ কলেজ এবং গানারী স্টাফ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন। জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, মানবাধিকার, শান্তিরক্ষা এবং কনফ্লিক্ট রেজোলিউশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার গভীর দক্ষতা রয়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চৌকস ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কঙ্গোতে ফোর্স কমান্ডারের স্টাফ অফিসার ও ডেপুটি কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কঙ্গোর জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেন— এমনকি তার পক্ষে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বানানোর দাবিতে মিছিলও হয়। এছাড়া, ইরাকে প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত থেকে তিনি ইরাক সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গণতন্ত্র, সুশাসন, মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স, সিভিল সোসাইটি ট্রেনিং, ও কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
একাডেমিক কর্মজীবন পেশাগত সামরিক ও নিরাপত্তা দায়িত্বের বাইরেও তার একাডেমিক ও গবেষণা কর্মজীবন রয়েছে। তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB)-এর অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নেতৃত্ব, গণতন্ত্র, রাজনীতি, গবেষণা, নীতি-প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।