মরুভূমির দেশে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই ভূকম্পন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোররাতে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ। সৌদি আরবের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি’ (NCM) এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় ভোরে মানুষ যখন ঘুমে বা দিনের শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই অনুভূত হয় এই কম্পন।
মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল নিয়ে ভিন্ন তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘খালিজ টাইমস’ এবং ‘সৌদি গেজেট’ উভয়ই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর প্রকাশ করেছে। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা বা Magnitude এবং উৎপত্তিস্থল নিয়ে সংবাদমাধ্যম দুটির তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৩। মাটির প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল বা Epicenter। অন্যদিকে, সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.০ এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার নিচে। গভীরতা কম হওয়ায় স্থানীয়রা কম্পনটি অপেক্ষাকৃত বেশি অনুভব করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও সরকারি ভাষ্য
ভূমিকম্পের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে স্বস্তির খবর হলো, সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা Saudi Geological Survey (SGS)-এর সরকারি মুখপাত্র তারেক আবা আল-খাইল জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “ভূমিকম্পটির যা তীব্রতা ছিল, তা এই অঞ্চলের মজবুত বা কংক্রিটের Infrastructure ধসিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী ছিল না। এটি একটি সাধারণ ভূ-প্রাকৃতিক ঘটনা, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: প্লেটের সংঘাত
কেন হঠাৎ এই কম্পন? এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারেক আবা আল-খাইল জানান, ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের মাটির নিচে অ্যারাবিয়ান এবং ইউরেশিয়ান ‘টেকটোনিক প্লেট’ (Tectonic Plate)-এর অবস্থান। এই দুই বিশাল প্লেটের সংযোগস্থলে বা ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা চাপের ফলেই এই কম্পন সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালায় এই দুই প্লেটের নিয়মিত সংঘর্ষ বা Collision চলে। এর প্রভাবে সৃষ্ট ‘টেকটোনিক স্ট্রেস’ সৌদি আরবের পূর্ব প্রদেশের ভূত্বকের নিচে থাকা পুরনো ফাটল বা Fault Lines-গুলোকে পুনরায় সক্রিয় (Reactivate) করে তোলে। এরই ফলশ্রুতিতে মাঝে মাঝে এমন মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। ভূতাত্ত্বিকরা একে স্বাভাবিক পক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন এবং আপাতত বড় কোনো ভূমিকম্পের বা Aftershock-এর সতর্কতা জারি করেননি।