কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) ধাওয়ায় ধরা পড়লেন মুন্না নামের এক বাংলাদেশি যুবক। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। বিএসএফের হাতে আটক ওই যুবককে পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিএসএফের হাতে আটক মুন্না আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামের অটোচালক শাহআলম মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)।
ভোররাতে সীমান্তের ৩০০ গজ গভীরে
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় জানা যায়, বুধবার ভোররাতে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা সীমান্ত দিয়ে মুন্নাসহ তিন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৩০০ গজ গভীরে চলে যান। তাদের গতিবিধি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক ধাওয়া দেয় বিএসএফ টহল দল।
এসময় বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন কৌশলে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও, আটকা পড়েন মুন্না। বিএসএফের জওয়ানরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
বিজিবি অধিনায়কের ভাষ্য
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূলত চোরাচালানের উদ্দেশ্যেই ওই যুবকরা ঝুঁকি নিয়ে ওপারে গিয়েছিলেন।
লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান বলেন, "ভোরে তারা ভারত থেকে চোরাই পণ্য (Smuggled Goods) আনার জন্য সীমান্তের ৩০০ গজের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। পরে বিএসএফ ধাওয়া করে মুন্নাকে ধরে ফেলে। আটক যুবকের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একাধিক মাদক মামলা (Drug Case) রয়েছে।"
ত্রিপুরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর
আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুন্নাকে ভারতের ত্রিপুরা পুলিশের (Tripura Police) কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানান বিজিবি অধিনায়ক।