আজ যা যা ঘটল, এক নজরে—
মরদেহ দেশে ফেরা ও জানাজার ঘোষণা
ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ বাংলাদেশে আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় (গ্রিনিচ সময় সকাল ৮টা) জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ড. ইউনূস হাদির মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করেন। হাদির সমর্থকরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সংহিসতায় উদ্বেগ
হাদির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজপথে নেমে আসে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ইনকিলাব মঞ্চ নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে তাদের সমর্থকদের রাস্তায় সহিংস কর্মকাণ্ড বন্ধে তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়েছে। হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে গাজীপুর শহরে মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সন্ধ্যায় রাজধানীর তোপখানা রোডের উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
রাজনৈতিক দলের শোক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। তারা পৃথক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক। হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এছাড়া, হাদি হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ‘কফিন মিছিল’ করেছে জুলাই ঐক্য।
রাষ্ট্রীয় শোক ও বিশেষ প্রার্থনা
আগামীকাল শনিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এছাড়াও, জুমার নামাজের পর সারা দেশের মসজিদে হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়েও হাদির আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।