রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দীর্ঘ ১৫ দিন কাটিয়ে পুনরায় লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের পথে রওনা হন। তবে এই যাত্রা সাময়িক; আগামী ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে সপরিবারে দেশে ফেরার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দরের পথে ডা. জুবাইদা
শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। এর আগে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ তার পৈত্রিক নিবাস থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পুরো যাত্রাপথে তার গাড়িবহরকে কেন্দ্র করে বিশেষ 'Security Protocol' বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিমানবন্দরে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তাকে বিদায় জানান। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার এই ঝটিকা লন্ডন সফর মূলত স্বামী তারেক রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ।
১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
ডা. জুবাইদা রহমানের এই লন্ডন যাত্রার মাত্র চার দিন পরই, অর্থাৎ আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর সেদিনই প্রথম সপরিবারে বাংলার মাটিতে পা রাখবেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফেরা বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সেবা ও চিকিৎসার তত্ত্বাবধান
গত ৫ ডিসেম্বর শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করতে লন্ডন থেকে দেশে এসেছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও 'Medical Board'-এর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় দেশেই চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। ডা. জুবাইদা এই দুই সপ্তাহ সার্বক্ষণিকভাবে শাশুড়ির পাশে থেকে তার সেবা ও চিকিৎসার সমন্বয় করেছেন।
প্রস্তুতি তুঙ্গে: ফিরোজা না কি নতুন ঠিকানা?
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি। 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, "ডা. জুবাইদা রহমান তার শাশুড়িকে মায়ের মতোই সেবা দিয়েছেন। এখন তিনি লন্ডনে গিয়েছেন মূলত তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে।"
তারেক রহমান সপরিবারে ঢাকায় কোথায় উঠবেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। গুলশানে তাদের জন্য একটি বাসভবন প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে বাসভবনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হলে তারা গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’তেই বেগম জিয়ার সঙ্গে উঠতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফিরে দেখা: ডা. জুবাইদা রহমানের সফরনামা
২০০৮ সালে দেশান্তরী হওয়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে প্রথমবারের মতো সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে এসেছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এরপর ৫ ডিসেম্বরের সফরটি ছিল মূলত পারিবারিক ও মানবিক কারণে। চিকিৎসক হিসেবে তিনি শাশুড়ির চিকিৎসার প্রতিটি খুঁটিনাটি সরাসরি তদারকি করেছেন। বর্তমানে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতে, উনার অবস্থা স্থিতিশীল এবং ডা. জুবাইদা যাওয়ার আগে চিকিৎসার একটি দীর্ঘমেয়াদী 'Action Plan' নিশ্চিত করে গেছেন।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ফেরার মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডা. জুবাইদা রহমানের এই যাত্রা সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনেরই এক অগ্রিম পদক্ষেপ।