দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগীত শিক্ষার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ ‘ছায়ানট’ ভবনে নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব। এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে শিল্পের ওপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংগীতশিল্পীদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এমন 'Vandalism' বা উগ্রবাদ রুখতে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছায়ানটে ধ্বংসলীলার চিত্র
গত ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে এই হামলা চালানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল উন্মত্ত জনতা এই বিদ্যাপীঠে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছায়ানটের ভেতরে চালানো সেই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। তানজিলুর রহমান সৌমিক নামের এক ব্যক্তির শেয়ার করা ১৫টি ছবিতে দেখা যায়, সংগীত চর্চার পবিত্র এই আঙিনা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হামলাকারীরা কেবল আসবাবপত্র ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, সংগীতের প্রাণ হারমোনিয়াম ও তবলা ভেঙে চুরমার করেছে। ভবনের একটি কক্ষে অগ্নিসংযোগের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বাদ্যযন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ছবিগুলো শেয়ার করে সৌমিক প্রশ্ন তুলেছেন, "বই, সংগীত, শিল্প-সাহিত্যের প্রতি ক্ষোভ কাদের থাকে?"
অর্ণবের অস্তিত্বের সংকট ও রাজনৈতিক সচেতনতা
সংগীতের এই অপূরণীয় ক্ষতি দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন অর্ণব। সৌমিকের সেই পোস্টটি নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করে অর্ণব দেশের সংগীতশিল্পীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন, শিল্পীদের ওপর এমন আক্রমণ তাদের 'Existential Crisis' বা অস্তিত্বের সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
অর্ণব তার পোস্টে লেখেন, “আমাদের সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে এবং ভোট দিতে হবে। নইলে আমরা সংগীতশিল্পীরা বড় ধরনের বিপদে পড়ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেখুন, ছায়ানটের সঙ্গে কী করা হয়েছে! আমাদের পাল্টা লড়াইয়ের একমাত্র উপায় হলো ভোট দেওয়া এবং অন্যদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের সুর
সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, ছায়ানটের ওপর এই হামলা কেবল একটি ভবনে আক্রমণ নয়, বরং বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে কুঠারাঘাত। অর্ণবের এই সাহসী অবস্থান ও ‘ভোটের মাধ্যমে লড়াই’ করার আহ্বান নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংগীত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে যারা দেশের 'Cultural Heritage' বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আঘাত করছে, তাদের রুখতে ব্যালটই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
১৮ ডিসেম্বর রাতের সেই বিভীষিকাময় নাশকতার পর পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গন এখন স্তব্ধ। ছায়ানটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন 'Extremism' বা উগ্রবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন শিল্পী, লেখক ও সাধারণ সংস্কৃতিমনা মানুষ। অর্ণবের এই ডাক মূলত সেই প্রতিবাদেরই এক প্রতীকী প্রকাশ, যা আগামীর ডিজিটাল ও রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে শিল্পীদের সুরক্ষার দাবিকে আরও জোরালো করবে।