• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ফের কি হামলার পথে ইসরাইল? ট্রাম্পের সঙ্গে ‘নির্ণায়ক’ বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ফের কি হামলার পথে ইসরাইল? ট্রাম্পের সঙ্গে ‘নির্ণায়ক’ বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ফের কি হামলার পথে ইসরাইল? ট্রাম্পের সঙ্গে ‘নির্ণায়ক’ বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

তেহরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট তেল আবিব; মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি আবারও প্রলয়ঙ্করী কোনো সংঘাতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে? তেহরানের ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) কর্মসূচি নিয়ে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ (NBC News) এবং হিন্দুস্তান টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মেগা বৈঠক: লক্ষ্য যখন ইরান

সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হতে যাচ্ছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিস্তার রোধ। ইসরাইলি ইন্টেলিজেন্স (Intelligence) রিপোর্ট বলছে, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে এই হুমকির গভীরতা সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং কেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর আবারও একটি ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলা জরুরি, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থন চাইবেন।

কেন নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা?

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ডিফেন্স সিস্টেমের (Defense System) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গত অক্টোবর এবং তারও আগে বছরের শুরুতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যে সরাসরি সংঘাত হয়েছিল, তাতে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বেশ কিছু প্ল্যান্ট ও অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছিল। তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান খুব দ্রুত সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় উৎপাদন শুরু করেছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইল সম্ভবত মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ‘গ্রিন সিগনাল’ বা সামরিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা চাইছে। ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ (Maximum Pressure) নীতি পুনরায় কার্যকর হলে ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি (Geopolitics)

ইসরাইলের এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা কেবল তেহরানের সঙ্গেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন ইসরাইলকে সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে নতুন সাহস জোগাচ্ছে। তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে তার পাল্টা জবাব হবে ভয়াবহ।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

এখন সবার নজর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সেই বহুপ্রতীক্ষিত বৈঠকের দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সরাসরি যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন দেবেন, নাকি কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন? বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কি সত্যিই ইসরাইলের জন্য অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, নাকি এটি বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট মাত্র—তা সময়ই বলে দেবে।

Tags: middle east geopolitical tension foreign policy global security ballistic missile israel iran netanyahu trump defense strategy intelligence report military strike