দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও ভোটের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (General Election) যেন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) ফজর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচন নিয়ে দৃঢ় অবস্থান
নির্বাচন ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হোক, এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ় আশাবাদী। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাব। তবে আমাদের মূল দাবি হলো— নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য। যেখানে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে যেন সাধারণ মানুষের মনে কোনো প্রশ্ন না থাকে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজর দিতে হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত আমিরের এই মন্তব্য নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর এক ধরনের ইতিবাচক চাপ তৈরি করবে, যাতে করে Polls Schedule নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয়।
শহীদ হাদির বিচারে অসন্তোষ
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারানো তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন জামায়াত আমির। হাদিকে ‘বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘হাদিরা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের (Sovereignty) অতন্দ্র প্রহরী ছিল। তারা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। চব্বিশের চেতনাকে রক্ষা করার অঙ্গীকার ছিল তাদের।’
হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হাদির খুনিদের বিচারে সরকার এখন পর্যন্ত যা করেছে, তাতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার (Legal Framework) আওতায় আনতে হবে। খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তবে এ দেশের কারো জীবনই নিরাপদ থাকবে না।’
বিপ্লবের চেতনা কখনো মরে না
জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে, বিপ্লবীদের হত্যা করে কোনো আদর্শ বা চেতনাকে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। বরং শহীদের রক্ত বিপ্লবের সেই আগুনকে আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়। হাদির মতো প্রতিভাবান তরুণদের হত্যার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফিরে দেখা: হাদি হত্যাকাণ্ড
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগ চলাকালে বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। হাদির অকাল মৃত্যু দেশের ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।