‘বানি’ চরিত্র ও দর্শকদের ভালোবাসা
অভিনেত্রী কৃতিকা কামরা জানান, তার ইনবক্স দর্শকদের ভালোবাসার বার্তায় ভরে গেছে। নারী দর্শকরা লিখছেন, ‘বনির মধ্যে আমি নিজেকে দেখেছি।’ লম্বা মেসেজে অনেকে নির্দিষ্ট দৃশ্য ও মুহূর্তের কথা তুলে ধরে বলছেন, ‘আমার অনুভূতিও ঠিক এমনই।’ স্ক্রিপ্ট পড়ার সময়ও তিনি একই অনুভূতি পেয়েছিলেন।
কৃতিকা বলেন, গল্পের বনির সঙ্গে তার সংযোগ ছিল তাৎক্ষণিক। বনির হতাশা, নিজের জায়গা খোঁজার প্রশ্ন, আর সেই নিরন্তর দায়িত্ববোধ—এসবের সঙ্গে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। বানি যেমন সবার খেয়াল রাখতে চায়, তেমনি কখনো কখনো সে নিজেও চায় কেউ তার খেয়াল রাখুক। পরিবারের বড় মেয়ে বা বড় বোন হিসেবে এই দায়িত্ব ও অনুভূতির সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও একাত্মতা অনুভব করেন।
পরিবারকেন্দ্রিক শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা
নারীকেন্দ্রিক একটি সেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কৃতিকা জানান, অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল। সিরিজটির নির্মাতা আনুশা রিজভী ভালো অভিনেতা ও ভালো মানুষ—এমন মানুষদের একসঙ্গে এনেছিলেন। দিল্লির একটি বাড়িতে শুটিং হওয়ায় সত্যিই মনে হতো যেন পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে এসেছেন।
ক্যামেরার বাইরের সময়গুলোও তারা একসঙ্গে কাটাতেন। কৃতিকা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে খেতাম, বসে গল্প করতাম, হাসতাম, গান গাইতাম। কেউই ভ্যানিটিতে ফিরে যেত না। ফরিদা জি (ফরিদা জালাল) আমাদের গল্প শোনাতেন। তখন দাদাবাড়ির গ্রীষ্মের ছুটির কথা মনে পড়ে যেত—যখন সব কাজিন আর মাসিরা একসঙ্গে বসতাম। ঠিক সেই অনুভূতি।’
বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের কর্মনিষ্ঠা
ফরিদা জালাল ও শিবা চাড্ডার মতো বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কৃতিকার কাছে ছিল অসাধারণ। তাদের অভিনয় যেমন শক্তিশালী, তেমনি বাস্তবে তারা ভীষণ সহজ-সরল ও প্রাণবন্ত। কৃতিকাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তাদের কর্মনিষ্ঠা।
তিনি বলেন, ‘মহান মানুষদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা উপদেশ দেন না, নিজের কাজ দিয়েই শেখান।’ ফরিদা জি এত বয়সেও অগোছালো শিডিউল ও দীর্ঘ সময়ের কাজে নমনীয় ও ধৈর্যশীল থাকেন—যা কৃতিকার কাছে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। শিবা চাড্ডার আন্তরিকতাও তার অভিনয়কে সত্য করে তোলে।
নারী লেখকের গল্পেই আসে বাস্তব চরিত্র
ভারতীয় সিনেমায় নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কৃতিকা বলেন, ‘এটা নারীর গল্প, একজন নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা, এইটাই শুধু পার্থক্য।’ লেখক-পরিচালক একজন মুসলিম নারী এবং গল্প ও সম্পর্কগুলো তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। তাই চরিত্রগুলো এত পূর্ণাঙ্গ মনে হয়।
তবে এমন চিত্রনাট্য এখনো বিরল বলেই মনে করেন কৃতিকা। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল বিরল এক কাজ, যেখানে নারীরা কেবল ক্যারিকেচার বা একমাত্রিক নয়—তারা স্তরবহুল, এলোমেলো, অসম্পূর্ণ। তাদের দেবীর আসনে বসানো হয়নি। নারীরা যখন নারীদের লেখে, তখনই এমনটা হয়।’ পুরুষরাও ভালো নারীচরিত্র লিখতে পারলেও একজন নারীর লেখা নারীচরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বরং নারীদের লেখা গল্পে পুরুষ চরিত্রগুলোকেও খুব আকর্ষণীয় লাগে বলে তিনি মত দেন।
সিরিজের দীর্ঘ পথচলা
ওয়েব সিরিজটির নির্মাণ যাত্রা নিয়েও কথা বলেছেন কৃতিকা। তিনি জানান, পরিচালক আনুশা আট বছর ধরে এই ছবি বানানোর চেষ্টা করেছেন, কারণ এমন গল্পের জন্য অর্থায়ন পাওয়া সহজ ছিল না। একটানা মাত্র ২২-২৩ দিনে শুটিং শেষ হলেও, মুক্তি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে আনুশাকে দীর্ঘ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।
চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আনুশা রিজভী। কৃতিকার পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন শিবা চাড্ডা, ফরিদা জালাল, জয়ী দত্ত ও জুহি বাব্বরসহ আরও অনেকে।