দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম সহিংসতা। একদল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর উন্মত্ত হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠের একটি ছোট শহর। প্রকাশ্য রাস্তায় কোনো উসকানি ছাড়াই চালানো এই 'Mass Shooting'-এ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রক্তাক্ত বেকারসডাল: প্রকাশ্য রাস্তায় বিভীষিকা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) জোহানেসবার্গের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বেকারসডাল (Bakersdal) এলাকায় এই নৃশংশতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই একদল সশস্ত্র বন্দুকধারী রাস্তায় সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আচমকা এই আক্রমণে পালানোর সুযোগ পাননি অনেকেই। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং 'Public Safety' নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
গৌতেং (Gauteng) প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিডিলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের ওপর কোনো কারণ ছাড়াই গুলি চালায়।" পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো শনাক্ত করার কাজ চলছে। আহত ১০ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা নেপথ্যে কোনো 'Criminal Gang'-এর যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারেই রয়েছে স্থানীয় 'Investigation' বিভাগ।
ক্রমান্বয়ে বাড়ছে অপরাধের গ্রাফ
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় 'Gun Violence' এবং 'Crime Rate' আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকারসডালের এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; বরং দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা সংকটের একটি অংশ। কিছুদিন আগেই প্রিটোরিয়ার একটি অবৈধ পানশালায় (Illegal Bar) একই ধরনের বন্দুক হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন 'Mass Shooting'-এর ঘটনা ঘটলেও হামলাকারীদের গ্রেফতার বা সাজা দেওয়ার হার কম হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অধরা আততায়ীরা: নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হামলাকারীদের সন্ধানে পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে এবং 'Security Alert' জারি করা হয়েছে। বেকারসডালের এই ট্র্যাজেডি দক্ষিণ আফ্রিকার ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করল। অপরাধীদের ধরতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ বিভাগ।