• জাতীয়
  • লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে কর্মীদের শরীরে 'বডি ক্যামেরা' বিমানের

লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে কর্মীদের শরীরে 'বডি ক্যামেরা' বিমানের

বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং যাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে কর্মীদের শরীরে 'বডি ক্যামেরা' বিমানের

যাত্রীসেবা ও লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এখন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের শরীরে 'বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সম্প্রসারিত কার্যক্রমের ফলে বিমান তাদের নিজস্ব ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকেও এই ক্যামেরাভিত্তিক নিরাপত্তা সেবা প্রদান শুরু করেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োজিত সকল কর্মীর জন্য 'বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা' ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এই সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর আগে, গত বছরের জুন মাস থেকে শুধুমাত্র বিমানের নিজস্ব এয়ারলাইন্সের লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হতো। ইতিবাচক ফল আসার পর এটিকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্যও চালু করা হলো।

বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্দেশ্য

বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে সব বিমানবন্দরেই নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ কঠোর নীতি মেনে চলে। এই প্রটোকল অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ও অবৈধ দ্রব্য বহন রোধে প্রয়োজনে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশির সময় তালা ভেঙে, চেইন কেটে বা লাগেজের কোনো অংশ কেটে নিষিদ্ধ জিনিস অপসারণ করার অনুমতি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের থাকে। এর জন্য যাত্রী বা এয়ারলাইন্সের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় না।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিদেশ থেকে আসা অনেক যাত্রী লাগেজ কাটার জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ওপর দায় চাপান। এছাড়া, কিছু অসাধু চক্রও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, যাত্রীদের সম্পত্তি রক্ষা, লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনা এবং অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা স্টেশনকে শনাক্ত করার লক্ষ্যেই বিমান বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের লাগেজ ওঠানামা কার্যক্রম এখন থেকে এই ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

কর্মকর্তার বক্তব্য ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি

বডি ওয়ার্ন ক্যামেরার সম্প্রসারণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (গ্রাহকসেবা) বদরুল হাসান লিটন বলেন, “যাত্রীদের সম্পত্তি ও সেবার গুণগত মান রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি যাত্রীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের পেশাদারিত্বকেও আরও উজ্জ্বল করবে।

Tags: transparency baggage handling biman bangladesh airlines body worn camera hazrat shahjalal international airport aviation security